পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সংহস্থ ২০২৮-এর প্রস্তুতিতে রাস্তা সম্প্রসারণ কাজকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছত্রী চক এলাকার কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক 'শাহী মসজিদ'-এর একটি অংশ সরানোর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ জনতা ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের সেল ছুড়ে ও মৃদু লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করে। পাথরের আঘাতে একাধিক পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকাজুড়ে বিশাল পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করে সম্পূর্ণ এলাকা কর্ডন বা ঘিরে ফেলা হয়েছে।

উজ্জয়িনী প্রশাসন সূত্রের খবর, ২০২৮ সালের ধর্মীয় মহা-মিলন ‘সংহস্থ’-র জন্য কাঁঠাল চৌরাহা থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত ৯০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা ১৫ মিটারে চওড়া করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই সম্প্রসারণের মধ্যে পড়েছিল শাহী মসজিদের প্রায় ১১ ফুট অংশ। রবিবার রাত থেকেই মসজিদের সামনে বিশাল জনতা ভিড় জমাতে থাকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের মধ্যে সারা রাত ধরে বৈঠক চলে।

উজ্জয়িনীর পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা বলেন, "মসজিদ কমিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অংশটি সরানোর কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতী অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা তৈরির উদ্দেশ্যে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।

বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

উত্তেজনা ছড়ানোর পর উজ্জয়িনীর শহর কাজী খলিলুর রহমান সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার এবং ঘটনাস্থলে ভিড় না করার জোর আবেদন জানান। তিনি বলেন, "অপ্রয়োজনে কেউ বাজারে বা অকুস্থলে যাবেন না। গতকাল রাতেই মসজিদ সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটি আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করছে। দয়া করে কোনো গুজবে প্ররোচিত হবেন না।"