পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রোজভ্যালি চিটফান্ড মামলায় আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় চরম ঢিলেমি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমানতকারীদের সমস্ত প্রাপ্য অর্থ ফেরানোর স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে প্রতি মাসে কমিটিকে আদালতে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি সুদীপ দে-র ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি বাকি বাজেয়াপ্ত না-হওয়া সম্পত্তি চিহ্নিত করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ইডি) দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলেছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ বছরে কমিটির হাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও আমানতকারীদের মাত্র ৫৫.৪৫ কোটি টাকা বণ্টন করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ১০টি সম্পত্তির নিলাম এবং ৮০টির মূল্যায়ন হয়েছে। এছাড়া প্রচারের অভাবে বহু আমানতকারী ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। এই অচলাবস্থা কাটাতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ৩২ লক্ষ ৪৩ হাজার ২২০টি মুলতুবি দাবির ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে দ্রুত বণ্টন করতে হবে। এরপর ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি ও অর্থ বণ্টনের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করতে হবে।
রায়ে ডিভিশন বেঞ্চ আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বাইরে ওই কমিটির অন্য কোনও আইনি এক্তিয়ার ছিল না। ফলে কমিটির অধীনে থাকা সহযোগী সংস্থা ‘চকলেট হোটেলস প্রাইভেট লিমিটেড’ তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে হোটেল পরিচালনার যে চুক্তি করেছিল, তা সম্পূর্ণ অনুমোদনহীন ও শুরু থেকেই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে আদালত। হাই কোর্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ না-হলে তা বিচারপতি এস পি তালুকদারের এক সদস্যের কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। এছাড়া সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে (এসএফআইও) আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে যাবতীয় ফরেনসিক অডিট শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।