পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম দিল্লির তিলক নগর এলাকায় রাস্তা পরিদর্শন কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিদর্শনের সময় ২২ বছর বয়সী এক তরুণকে চড় মারার অভিযোগে পূর্ত মন্ত্রী পারবেশ ভার্মার বিরুদ্ধে নন-কগনিজেবল রিপোর্ট নথিভুক্ত করেছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আম আদমি পার্টি (আপ)-র বিধায়ক জার্নাইল সিংয়ের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জনকপুরী জেলা সেন্টার চক থেকে নজফগড় ড্রেন পর্যন্ত আউটার রিং রোডের মেরামত কাজ পরিদর্শন করছিলেন মন্ত্রী। সেখানে অভিযোগকারী তরুণ সাহেব সিং ভিডিও তোলার সময় মন্ত্রী তাঁকে চড় মারেন।

সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ এই আইনি পদক্ষেপ নেয়।

সাহেব সিংয়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১১৫ নম্বর ধারায় (স্বেচ্ছায় আঘাত করা) মন্ত্রী পারবেশ ভার্মার বিরুদ্ধে এনসিআর দায়ের করেছে। অন্যদিকে, পূর্ত বিভাগের একজন সহকারী ইঞ্জিনিয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে আপ বিধায়ক জার্নাইল সিংয়ের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা দেওয়ার ধারায় এফআইআর রুজু হয়েছে।

জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় সেখানে উপস্থিত আপ বিধায়ক জার্নাইল সিং সদ্য তৈরি করা রাস্তার অংশ হাত দিয়ে তুলে মানহীন কাজের অভিযোগ তোলেন। ঘটনার পুরো দৃশ্য তরুণ সাহেব সিং নিজের ফোনে রেকর্ড করার সময় মন্ত্রী পারবেশ ভার্মা তাঁকে চড় মারেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী পারবেশ ভার্মা জানান, সরকারি আধিকারিকদের কাজে আপ কর্মীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা তিনি কোনোভাবেই বরদাস্ত করবেন না। তিনি আরও দাবি করেন, সাহেব সিং আপ-এর সাথে যুক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই মামলা রয়েছে। ঘটনার পর দিল্লি বিজেপির পক্ষ থেকে এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হলেও সাহেব সিংকে 'অভ্যাসে পরিণত অপরাধী' বলে দাবি করা হয়।

পশ্চিম দিল্লির ডিসিপি হরেশ্বর স্বামী জানিয়েছেন, সাহেব সিং এবং পূর্ত বিভাগের সহকারী ইঞ্জিনিয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনার বিষয়ে আরও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা তদন্ত চলাকালীন খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশ রেকর্ডে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুন মাসে এক পুরকর্মীকে আবর্জনা ফেলা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে মারধরের ঘটনায় সাহেব সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং পরে তিনি জামিন পান।