পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০২৪ সালের নভেম্বরে উত্তরপ্রদেশের সম্বল হিংসার ঘটনায় প্রধান চক্রান্তকারী হিসেবে অভিযুক্ত মোল্লা আফরোজের বিরুদ্ধে জারি করা জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর আওতায় আটকাদেশ বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় খারিজ করে বেআইনি আটকাদেশ জারির অপরাধে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে ১০ লাখ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।

মোল্লা আফরোজ বর্তমানে মোরাদাবাদ জেলে বন্দি রয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাঁর আটকাদেশের সিদ্ধান্তকে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বহাল রাখলেও, সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আফরোজ।

শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানায় যে, কেবল পুলিশি হেফাজতে দেওয়া জবানবন্দি বা স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মতো কঠোর প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন আইন প্রয়োগ করা যায় না। শীর্ষ আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, পুলিশি হেফাজতে স্বীকারোক্তি আদালতে সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়। সেই প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আটকাদেশ জারি করার আগে প্রশাসনের উচিত অন্যান্য পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা। প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন আইন হলো সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা জনিত হুমকি রোখার জন্য; অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো অপরাধের শাস্তি হিসেবে কাউকে আটক রাখতে এই আইন ব্যবহার করা যায় না।

আফরোজের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন যে, কারও বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা থাকাই প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন জারির জন্য যথেষ্ট হতে পারে না। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সঠিক মূল্যায়নের পরই এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এছাড়া, সহিংসতার সময় পুলিশি গুলি চালনার ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আদালতের নির্দেশে প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষা বিভাগ (ASI) যখন মুঘল আমলের শাহি জামা মসজিদে সমীক্ষা চালাচ্ছিল, তখন উত্তরপ্রদেশের নম্বলে তীব্র সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনায় অন্তত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং পুলিশ মোট ৭৯ জনকে গ্রেফতার করেছিল।