পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: "যতদিন না অঙ্কেল বুড়ো হচ্ছে, ততদিন যেন তাঁকে জেলেই রাখা হয়।" ১০ বছরের এক শিশুর এই আকুল আবেদন শুনেছিল পকসো আদালত। বিচার শেষে আইনি কঠোরতার গণ্ডি পেরিয়ে সেই খুদেকে এক ব্যক্তিগত বার্তা দিয়ে খাঁচাবন্দি জীবনের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছিলেন বিচারক। দিল্লির রোহিনী আদালতের ট্রায়াল কোর্টের সেই আবেগঘন চিঠিকে 'সাহসিকতার বার্তা' হিসেবে আখ্যা দিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে— আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অর্থপূরণ বা ক্ষতিপূরণের সাথে বিচারকের লেখা চিঠিটি যেন ওই শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি প্রতিভা এম সিং এবং বিচারপতি দিনেশ ভূটের বেঞ্চ গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ উত্তর-পশ্চিম দিল্লি জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে (DLSA) বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন যেন ট্রায়াল কোর্টের বিচারকের সেই বার্তা মুদ্রিত করে শিশুটি বা তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
রোহিনী আদালতের অতিরিক্ত সংবিভাগীয় বিচারক (POCSO) রজনী রাঙ্গা অভিযুক্ত সুমিত শাক্যের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় প্রদান করার সময় আইনি পরিভাষার ঊর্ধ্বে উঠে ১০ বছরের শিশুটিকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি একটি চিঠি লেখেন।

বিচারক রাঙ্গা লেখেন: "প্রিয় সন্তান,
বেটা, এই আদালত তোমার কথা শুনেছে। তুমি যখন বলেছিলে 'যতদিন না অঙ্কেল বুড়ো হচ্ছে, তাকে জেলেই রাখা হোক', এই আদালত তোমার আর্জি শুনেছে এবং উত্তর দিয়েছে। আজ এই আদালত আদেশ জারি করেছে যে, যাকে তুমি 'অঙ্কেল' বলতে, সে আর কোনোদিন মুক্ত বাতাসে হেঁটে বেড়াতে পারবে না। সে তার বাকি জীবনটা একটা খাঁচার মধ্যে কাটাবে। সেই খাঁচাতেই সে বুড়ো হবে এবং সেই খাঁচাতেই তার মৃত্যু হবে। সে আর কোনোদিন তোমাকে, তোমার ছোট বোনকে বা অন্য কোনো শিশুকে আঘাত করতে পারবে না।
তুমি এই আদালতের দেখা সবচেয়ে সাহসী ছোট মেয়ে। তুমি আদালতে এসেছ, যে তোমাকে কষ্ট দিয়েছিল তাকে আঙুল তুলে দেখিয়েছ এবং সত্য কথা বলেছ। যে তোমাকে কষ্ট দিয়েছিল, সে খুব খারাপ কাজ করেছিল। কিন্তু তুমি চুপ থাকোনি, তোমার মাকে সব জানিয়েছ। আর তোমার এই কথা বলার সাহসের কারণেই সে আর অন্য কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না।... বেটা, এবার তুমি তোমার মতো বাঁচো।
স্কুলে যাও, বন্ধু তৈরি করো, হাসো, খেলো এবং স্বপ্ন দেখো। এই আদালত সর্বদা তোমার এই সাহসকে স্মরণ রাখবে।"

মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই। তখন শিশুটির বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। বর্তমানে তার বয়স ১০ বছর। অভিযুক্ত সুমিত শাক্যর করা ফৌজদারি আপিল আবেদনের শুনানিতে আদালত তার সাজা মকুব বা জামিনের আর্জি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিচারক বেঞ্চ স্পষ্ট জানান, ফরেনসিক প্রমাণসহ মামলার সমস্ত তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে কোনো মধ্যবর্তী ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।