পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আল কায়েদার মতাদর্শে বিশ্বাসী বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’-র সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে রাজ্য থেকে চার জনকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। মঙ্গলবার ভোর থেকে তিন রাজ্য জুড়ে চলা এনআইএ-র তল্লাশি অভিযানের অংশ হিসেবে এ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের পাকড়াও করা হয়।
আরও পড়ুন:
ধৃতদের মধ্যে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের পালিশগ্রামের এক মসজিদের ইমাম পিয়ার মহম্মদ শেখ, বজবজের মিঠাপুকুরের বাসিন্দা পেশায় দর্জি জুম্মান শেখ, বজবজের বলরামপুরের বাসিন্দা অ্যাপ-ক্যাব চালক শাহরুল পুরকায়েত এবং নরেন্দ্রপুরের কুসুম্বার বাসিন্দা আবদুল রফিক।
আরও পড়ুন:
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে মুজিবর রহমান নামে বছর তিরিশের এক যুবকের বাড়িতেও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। বিজ্ঞানে স্নাতক ওই যুবক বর্তমানে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তবে তল্লাশির সময় বাড়িতে তাঁর হদিস মেলেনি। বাড়ি থেকে বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে অসম পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) অসম ও ত্রিপুরা থেকে এই জঙ্গি সংগঠনের ১১ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই মুজিবরের নাম উঠে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ২ জানুয়ারি থেকেই সে ফেরার। অসমে ধৃতদের মোবাইল ফোনের বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপের কথোপকথন ঘেঁটেই এ রাজ্যে ধৃত চার জনের খোঁজ পান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।আরও পড়ুন:
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মূলত আল কায়েদা নেতৃত্বের নির্দেশেই জামাতুল মুজাহিদিন (জেএমবি) নেতা জুয়েল আলি ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ নামে এই নতুন সংগঠনটি তৈরি করেছিল। বাংলাদেশের মৌলভিবাজারের পার্বত্য এলাকায় তাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবিরও চলত। গত ২০২৩ সালের অগস্টে ওই শিবির থেকে জুয়েল-সহ বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হলেও, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাদের অনেকেই মুক্তি পেয়ে যায় বলে গোয়েন্দাদের দাবি। এই নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও মঙ্গলবার অসমের দশটি ও কেরলের একটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে এনআইএ। যাদের নাম উঠে আসছে, তাদের অনেকেই বাংলাদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।