স্কুলপড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার প্রকল্পে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এতদিন নবম শ্রেণিতে উঠলে পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়া হত। এবার থেকে অষ্টম শ্রেণিতেই পড়ুয়ারা সাইকেল পাবে। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পাল চৌধুরী হাইস্কুল থেকে নতুন ‘সারথি’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। রাজ্য সরকারের দাবি, প্রায় ১২.৫৯ লক্ষ পড়ুয়া এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

নতুন প্রকল্পে শুধু নামের পরিবর্তন নয়, সাইকেলের গুণমান ও নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। আগের ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পের পরিবর্তে নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘সারথি’। সাইকেলের রংও বদল করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, সাইকেলে উপযুক্ত আলো ও উন্নতমানের টায়ারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাইকেলের গুণমান যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নতুন প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী ‘সারথি’ চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি শুধুমাত্র নাম ও লোগো পরিবর্তনের বিষয় নয়, পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও সাইকেলের মান উন্নত করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আগের সরকারের প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, একসময় এই প্রকল্পের কাজের সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়দের নাম জড়িয়ে ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে। তিনি আরও জানান, আগে পাঞ্জাব থেকে যন্ত্রাংশ এনে বাংলায় সাইকেল তৈরি করা হত।

নতুন ব্যবস্থায় রাজ্যেই সাইকেল তৈরির পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য সাইকেল কারখানা তৈরির জন্য জমি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিন প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়াদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। স্কুলে পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁর এই মধ্যাহ্নভোজ ঘিরেও আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়।

সরকারের বক্তব্য, ‘সারথি’ প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন আরও কম বয়সেই পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়া হবে, অন্যদিকে উন্নতমানের সাইকেল ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হবে। অষ্টম শ্রেণি থেকেই সাইকেল পাওয়ায় স্কুলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের সুবিধা হবে বলেও সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।