পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অপর দুই কমিশনারের সংঘাতের খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ল রাজ্য স্তরেও। ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বিয়োজনের ক্ষেত্রে ‘ইসিআইনেট’ সফটওয়্যারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (ইআরও) হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার দাবিতে কমিশনের দিল্লি দফতরে চিঠি পাঠিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এস চোকলিঙ্গম। ২৩ সেপ্টেম্বর পাঠানো এই চিঠির বিষয়টি সামনে এনেছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’।
চিঠিতে মহারাষ্ট্রের সিইও উল্লেখ করেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে বয়স বা পিতা-মাতার নাম না মিললে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির যুক্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সফটওয়্যারটিতে, যা বকলমে পরিচালনা করছে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং এর প্রধান সীমা খান্না।

এমনকি কোনও ভোটারের বয়স বা অসুস্থতার কারণে হাজিরায় ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও বর্তমানে ইআরও-দের হাতে নেই। সিইও-র দাবি, এই সমস্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্ষমতা ইআরও-দের হাতেই ন্যস্ত থাকা উচিত।
এর পাশাপাশি কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি নথির বাইরেও ‘অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি’ গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন এস চোকলিঙ্গম। তাঁর মতে, সমাজের প্রান্তিক অংশ— যেমন ভবঘুরে, গৃহহীন কিংবা যৌনকর্মীরা প্রায়শই নির্দিষ্ট ওই ১৩টি নথি জোগাড় করতে পারেন না। তাই নাম বাদ পড়া কোনও ভোটারের পেশ করা নথি যদি সন্তোষজনক হয়, তবে সেই নথি যাচাই করে সরাসরি নাম তালিকায় তোলার চূড়ান্ত ক্ষমতা ইআরও-দের দেওয়া প্রয়োজন। কমিশনের আইটি বিভাগের ক্ষমতার রাশ টানা এবং ভোটার তালিকা তৈরির বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির পর মহারাষ্ট্রের সিইও-র এই চিঠি নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিতর্ককে আরও উস্কে দিল।