ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আহত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে। সেই হাসপাতালেও হামলা চালানো হলে তাঁকে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে উদ্ধার করতে হয় বলে দাবি করেছেন ইরানের ধর্মীয় নেতা ও অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য মহসেন হেইদারি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি এই দাবি করেন তিনি।

হেইদারির বক্তব্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন। ওই হামলাতেই তাঁর বাবা এবং তৎকালীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। আহত মোজতবাকে চিকিৎসার জন্য তেহরানের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে তেহরানের তিনটি হাসপাতালে হামলা চালানো হলে তিনি যে তৃতীয় হাসপাতালে ছিলেন, সেটিও হামলার শিকার হয়। সেখান থেকেই তাঁকে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে বের করে আনা হয় বলে হেইদারি জানিয়েছেন।

এরপর মোজতবা খামেনিকে একটি গোপন বা অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের দাবি সামনে এসেছে। ফলে হেইদারির এই বক্তব্য মোজতবার নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সাক্ষাৎকারে হেইদারি মোজতবা খামেনির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্যরা যখন তাঁকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেন, তখন মোজতবার নিজেরই তা জানা ছিল না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নির্বাচনের ঘোষণা সম্প্রচারিত হওয়ার পরই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। হেইদারির বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পর সাংবিধানিক ও ধর্মীয় নিয়ম মেনে দায়িত্ব গ্রহণ করতে তিনি বাধ্য হন।

এদিকে, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ার সময় অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসও হামলার আশঙ্কার মধ্যে ছিল বলে হেইদারি জানিয়েছেন। কুম শহরে পরিষদের সচিবালয়ে হামলার ফলে কয়েকজন নিহত হন এবং নেতৃত্ব নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু নথি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয় বলে তাঁর দাবি।

এরপর নিরাপত্তার কারণে সদস্যদের একটি গোপন স্থানে বৈঠকে ডাকা হয়।

হেইদারি জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে তিনিই প্রথম মোজতবা খামেনির নাম প্রস্তাব করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতেই পরিষদের সদস্যরা মোজতবার নামের পক্ষে এগিয়ে যান। হেইদারির দাবি, তাঁরা জানতে পেরেছিলেন যে মোজতবা নেতৃত্ব দেওয়ার মতো শারীরিক ও ধর্মীয় যোগ্যতা রাখেন।

গোপন ভোটে মোট ৫৯টি ভোট পড়ে বলে হেইদারি জানিয়েছেন। এর মধ্যে মোজতবা খামেনি পান ৫০টি ভোট। আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি পান ৮টি ভোট এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন। এই ভোটের পর মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।