পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়েছে। একই সঙ্গে দেশের মোট জনসংখ্যাও টানা তৃতীয় আদমশুমারিতে কমেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ২০২৫ সালের চূড়ান্ত আদমশুমারির ফলাফলের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে জাপানের সংবাদ সংস্থা কিয়োদো।
আদমশুমারির হিসাবে, ২০২৫ সালে জাপানের মোট জনসংখ্যার ২৯.৪ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০২০ সালের তুলনায় এই হার বেড়েছে ০.৯ শতাংশ।

অর্থাৎ দেশটির জনসংখ্যায় প্রবীণদের অংশ ক্রমেই বাড়ছে।
অন্যদিকে, বিদেশি বাসিন্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে জাপানের মোট জনসংখ্যা ২০২০ সালের তুলনায় ৩১ লাখ ৭০ হাজার কমেছে। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর দেশটির মোট জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১২ কোটি ২৯৭২ হাজার ৫২৮ জনে। ২০২০ সালের তুলনায় এই পতনের হার ২.৫ শতাংশ।
১৯২০ সাল থেকে প্রতি পঁাঁচ বছর অন্তর আদমশুমারি পরিচালনা করে আসছে জাপান।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, এবার নিয়ে টানা তৃতীয় আদমশুমারিতে দেশের জনসংখ্যা কমল।
জনসংখ্যা কমলেও রাজধানী টোকিওকে ঘিরে মহানগর এলাকায় মানুষের ঘনত্ব বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার ৩০.১ শতাংশ টোকিও মহানগর এলাকায় বসবাস করেছেন। প্রথমবারের মতো এই হার ৩০ শতাংশের সীমা পেরিয়েছে।
জাপানের জনসংখ্যা সংকটের অন্যতম কারণ দীর্ঘদিনের কম জন্মহার।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানি বাসিন্দাদের মধ্যে ৬ লাখ ৭১ হাজার ২৩৬টি শিশুর জন্ম হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১৪ হাজার ৯৩৭ কম এবং ১৮৯৯ সালে তুলনীয় রেকর্ড রাখা শুরুর পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে মোট প্রজনন হারও ২০২৪ সালের ১.১৫ থেকে কমে ১.১৪-তে নেমেছে।
তবে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জন্মহারে সামান্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রাথমিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিদেশি নাগরিকদেরও ধরে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৮টি শিশুর জন্ম হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৮ শতাংশ বেশি। তবে একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮২ জনের। ফলে ছয় মাসে স্বাভাবিক জনসংখ্যা কমেছে আরও ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৪ জন।