উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় :দলীয় নির্দেশ অমান্য করে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে পঞ্চায়েতের নতুন বোর্ড গঠন এবং উপপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগে দল থেকে ছ’বছরের জন্য বহিষ্কার করা হল শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অপর্ণা সরদারকে। মঙ্গলবার জয়নগর এক নম্বর ব্লকের শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরনো বোর্ডের পতন ঘটে। এরপর বিজেপি, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের একাংশের সমর্থনে গঠিত হয় নতুন বোর্ড। নতুন বোর্ডের প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির কাবেরী দাস এবং উপপ্রধান হয়েছেন অপর্ণা সরদার।

১৯ সদস্যের শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা ৮, বিজেপির ৮, কংগ্রেসের ১, এসইউসিআইয়ের ১ এবং তৃণমূল-সমর্থিত নির্দল সদস্য রয়েছেন ১ জন। মঙ্গলবার নতুন বোর্ড গঠনের সময় বিজেপির আট সদস্যের পাশাপাশি কংগ্রেসের এক সদস্য এবং তৃণমূলের দুই সদস্য উপস্থিত ছিলেন।বোর্ড গঠনের পরেই বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। অভিযোগ, দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে বিজেপির সঙ্গে বোর্ড গঠনে অংশ নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি তপন মণ্ডল সাংবাদিক সম্মেলন করে অপর্ণা সরদারকে ছ’বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন।তপন মণ্ডল বলেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে জয়নগরের শ্রীপুরে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর দাবি, এটি সম্পূর্ণ দলবিরোধী কাজ।
সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে।জেলা কংগ্রেস সভাপতির আরও বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে ব্লক সভাপতি, বুথ সভাপতিসহ দলের আরও কেউ যুক্ত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও দলীয় নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইনানুগ পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি।এদিকে নতুন বোর্ড গঠনের পর শ্রীপুর পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন এল। দীর্ঘদিন তৃণমূলের দখলে থাকা পঞ্চায়েত এখন বিজেপির নেতৃত্বাধীন বোর্ডের হাতে। নতুন প্রধান ও উপপ্রধান দায়িত্ব নেওয়ার পর পঞ্চায়েত এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন।তবে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে উপপ্রধান অপর্ণা সরদারের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।