পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: গ্রেটার নয়ডা থেকে দিল্লিগামী একটি স্লিপার বাস চড়ে গত আগস্ট মাসে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় ড্রাইভার ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে ৩৯৮ পৃষ্ঠার বিশদ চার্জশিট জমা দিল দিল্লি পুলিশ। মামলার মূল ভিত্তি হিসেবে সিমন (বীর্য) এবং চুলের নমুনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বায়োলজিক্যাল বা জৈবিক প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর চার্জশিট জমা দেওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর নগর আদালত বিষয়টি আমলে নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই নজিরবিহীন ও নৃশংস ঘটনাটি ফের ২০১২ সালের ঐতিহাসিক 'নির্ভয়া' কাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতিকে উসকে দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টির স্বতঃপ্রণোদিত সংজ্ঞান নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, নির্ভয়া কাণ্ডের এক দশক পেরিয়ে গেলেও আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থার কি আদৌ কোনো বাস্তবিক অগ্রগতি হয়েছে?পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৪ আগস্ট রাতে। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ওই নাবালিকা নোয়েডা সেক্টর ৬৩ যাওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রেটার নোয়েডা থেকে ভুলবশত বাসটিতে ওঠে। বাসে ওঠার পরেই সে বুঝতে পারে ভেতরে কোনো যাত্রী নেই। নাবালিকাটি বাস থেকে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাসের কন্ডাক্টর সন্দীপ তাকে নামতে না দিয়ে জোরপূর্বক বাসের দরজা লক করে দেয়। বাসটিকে দিল্লির দিকে নিয়ে গিয়ে চলন্ত বাসের মধ্যেই নাবালিকার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায় ড্রাইভার কুলদীপ ও কন্ডাক্টর সন্দীপ। এরপর দিল্লির কাশ্মীরি গেট বাস টার্মিনালের কাছে তাকে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার পরেই তরুণী পুলিশে অভিযোগ জানালে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিমারপুরের একটি পার্কিং এলাকা থেকে কানপুরের বাসিন্দা কুলদীপ ও সন্দীপকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ফোরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির পরীক্ষার জন্য বাস থেকে সংগৃহীত সিমন ও চুলসহ জৈবিক তথ্য চার্জশিটে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১০ জন পুলিশকর্মী, চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষী করা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, চালক ও কন্ডাক্টরের কোনো পুলিশ ভেরিফিকেশন ছিল না। বাসের সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল ছিল এবং জানালাগুলিতে পর্দা দেওয়া ছিল। প্যানিক বোতাম বা ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম কিছুই ছিল না। বাসটির নামে ১১টি ট্রাফিক চালান বকেয়া ছিল, যার মধ্যে ৭টিই অতিরিক্ত গতির জন্য।