পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কেরালার রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমে একটি বিশ্ববিদ্যালয় হোস্টেলের বাইরে ইউথ কংগ্রেস ও এসএফআই কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের জেরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইট-পাটকেল, বিয়ারের বোতল এবং জ্বলন্ত মশাল নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায় দুই দল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হোস্টেলে ঢুকে ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করে, যার ফলে বেশ কয়েকজন ছাত্র গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যব্যাপী ক্লাস বয়কট ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই।
আরও পড়ুন:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইউথ কংগ্রেসের একটি নৈশ মিছিলকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা ৭:৩০ টা নাগাদ এই গোলমালের সূত্রপাত হয়।
ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের তরফেই তীব্র অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে। ইউথ কংগ্রেসের দাবি, হোস্টেলের ভেতর থেকে মিছিল লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, বিয়ারের বোতল এবং পেট্রোল বোমা ছোঁড়া হয়েছিল। এসএফআই ও ছাত্রদের দাবি, লোডশেডিংয়ের সময় কটূক্তি করাকে কেন্দ্র করে মিছিল থেকে প্রথম আক্রমণ চালানো হয়। মিছিলকারীরা হোস্টেল চত্বরে জ্বলন্ত মশাল ছুড়ে মারে, যা একাধিক পার্ক করা গাড়ি ও জানালার কাঁচে গিয়ে লাগে।আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কেরালা পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রধান পি বিজয়ন।
তিনি জানান, এই ধরনের হিংসার কোনো কারণ ছিল না এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করবেন।আরও পড়ুন:
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বামপন্থী প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এটিকে একতরফা আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "এসএফআইয়ের পক্ষ থেকে কোনো উস্কানি ছিল না। ইউথ কংগ্রেসের কর্মীরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে হোস্টেলের ভেতর ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হোস্টেলের ভেতরে জ্বলন্ত মশাল ছোঁড়া হয়েছে—যা পুলিশও অস্বীকার করতে পারবে না।" পিনারাই বিজয়ন আরও অভিযোগ করেন, আহত ছাত্রদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। জেলা হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ছাত্রদের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হয়।