পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যাক্ট বা এফসিআরএ আইনে প্রস্তাবিত সংশোধন নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় কেবল খ্রিস্টান ধর্মীয় সংস্থাগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিদেশি অনুদান পাওয়া প্রতিটি এনজিঅ’ ও সামাজিক সংগঠনের ওপর এর প্রভাব পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মেঘালয়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল পিপলস পার্টি প্রধান প্রেসটোন টাইনসং।

এই বিলটিকে বিশদ পর্যালোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে টাইনসং আশা প্রকাশ করেন, খ্রিস্টান ধর্মীয় সংস্থা এবং নানা সামাজিক সংগঠনের তোলা আশঙ্কাগুলি সংসদীয় পর্যালোচনার সময় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে মেঘালয়ের সাংসদ জেমস পি কে সাংমাকে এই জেপিসি-র বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করাকে তিনি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন।

এফসিআরএ বিধিনিষেধ সংক্রান্ত বিষয়ে তুরার কংগ্রেস সাংসদ সালেং সাংমার একটি বিতর্কিত ভূমিকা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেন্দ্র যাতে প্রস্তাবিত সংশোধনগুলি প্রত্যাহার করে নেয়, সেই বিষয়ে আবেদন জানাতে তিনি আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, ইংল্যান্ড, মেক্সিকো ও আফ্রিকা অঞ্চলের একাধিক প্রতিনিধি দল ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের সাথে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান।

এর পাশাপাশি, সাংসদ সালেং সাংমা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীগণ, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপ-রাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের সাথেও সাক্ষাৎ করে বিলের ধারাগুলি নিয়ে মেঘালয়ের সীমান্ত এলাকার মানুষের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন।

মেঘালয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিচালিত একাধিক স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, হোস্টেল এবং জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি মূলত এফসিআরএ-র আওতাভুক্ত বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। কড়া নিয়ম কার্যকর হলে এসব জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সংগঠনগুলি ভৌগোলিক দুর্গমতার বিষয়টিকে বিশেষ ছাড় হিসেবে বিবেচনা করার আর্জি জানিয়েছে।

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা জানিয়েছেন, কেন্দ্র সরকারের সাথে রাজ্য সরকার গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে কোনো কল্যাণমূলক সংস্থার কাজ বন্ধ না হয়। একই সাথে, আসল ও নির্ভরযোগ্য এনজিঅ’গুলির আবেদন এবং আইনি শর্ত পূরণ ত্বরান্বিত করতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে একটি বিশেষ ‘এফসিআরএ সেল’ খোলার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।