রাষ্ট্র ও ধর্মকে পরস্পরের থেকে পৃথক করা যায় না—মুম্বইয়ে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। শুক্রবার বোরিভলিতে ‘অল ইন্ডিয়া বিহার সেবা গ্রুপ’-এর ১৪তম সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় ধারণায় রাষ্ট্র ও ধর্ম পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত এবং একে অপরের উপর নির্ভরশীল। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ধর্মকে ধারণ করা, আর ধর্ম রাষ্ট্রকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল রাখে।
আরও পড়ুন:
ভাগবতের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘ধর্ম’ বলতে শুধুমাত্র কোনও নির্দিষ্ট উপাসনা-পদ্ধতিকে বোঝানো হচ্ছে না। ন্যায়, নীতি, পরমার্থ এবং মানবকল্যাণের মতো বৃহত্তর মূল্যবোধের সঙ্গে ধর্মকে যুক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, গীতা, জৈন আগম, ত্রিপিটক এবং গুরু গ্রন্থ সাহিবের মতো বিভিন্ন ধর্মীয় ও জ্ঞানগ্রন্থের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে বিভিন্ন ঐতিহ্যের মধ্যে সমন্বয় ও মানবকল্যাণের গুরুত্ব উঠে আসে।আরও পড়ুন:
বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর মতে, উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য এবং ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংঘাত—এই ধরনের নানা দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে বিশ্ব এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রাচীন জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য বিশ্বের সামনে কিছু সমাধানের পথ দেখাতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ভাগবতের বক্তব্য ঘিরে ভারতের সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতার প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘সেকুলার’ বা ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটি ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত হয়। একই সঙ্গে সংবিধানের ২৫ থেকে ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার এবং রাষ্ট্রের ধর্মীয় বিষয়ে নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিধান রয়েছে। সরকারি সাংবিধানিক নথিতেও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের কোনও নিজস্ব ধর্ম নেই এবং সব ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রের সমান আচরণের নীতি রয়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে আরএসএসের বক্তব্য অনুযায়ী, ভাগবত তাঁর মন্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মকে রাষ্ট্রের ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা বলেননি; তাঁর ‘ধর্ম’ বলতে ন্যায়, কর্তব্য, মানবকল্যাণ ও সামাজিক মূল্যবোধের ধারণাকেই বোঝানো হয়েছে। ফলে তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে ‘ধর্ম’ শব্দটির অর্থ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।