পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রেজিনগরের পর এবার নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনী প্রচারে গিয়েও ধর্মীয় বিভাজন ভুলে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নন্দীগ্রামের দেবীপুরে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্দেশে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক জমি হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিয়ে কেন তিনি ভবানীপুর ধরে রাখলেন, এ দিন প্রথমবার তার নেপথ্য কারণও প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।
জনসভায় সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকলে কোনও পক্ষেরই লাভ হবে না। সরকার কোনও ভেদাভেদে বিশ্বাসী নয় এবং কারও ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে চায় না।

তাঁর কথায়, শাসক দল ‘জয় শ্রীরাম’ বললেও তা কারও ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে না। মানুষ ‘জয় শ্রীরাম’ বলবেন নাকি ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলবেন, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁদের নিজস্ব পছন্দের বিষয়। আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে ‘বন্ধুত্বের দিন’ বলে অভিহিত করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, অস্তিত্বহীন বাম, সাইনবোর্ড হয়ে যাওয়া কংগ্রেস বা ক্ষয়িষ্ণু দলকে ভোট দিয়ে কী লাভ? এর চেয়ে উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে এক হয়ে বিজেপি প্রার্থীকে জয়ী করার ডাক দেন তিনি।
এ দিন নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে প্রথমবার মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন তিনি। পরে নন্দীগ্রাম আসন থেকে ইস্তফা দিয়ে ভবানীপুর নিজের হাতে রাখেন। সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, নন্দীগ্রাম তাঁর ভদ্রাসন হওয়া সত্ত্বেও তিনি তা ছেড়েছেন এবং ভবানীপুর রেখে দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি স্পষ্ট করেন, ভবানীপুর ছেড়ে দিলে সেখানে তাঁর কাছে পরাজিত প্রার্থী পুনরায় সুযোগ পেয়ে যেতেন। নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেই তিনি এই ব্যাখ্যা দেন।