পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: এসআইআর ট্রাইব্যুনালে বিপুল সংখ্যক মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া এবং সাড়ে পাঁচ লক্ষের বেশি মানুষের ভাগ্য ঝুলে থাকার মধ্যেই কাজ ছাড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনকে লেখা এক চিঠিতে দূরত্বের ধকল, খারাপ রাস্তা ও ট্রাফিক যানজটের কারণে ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তবে একই সাথে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ইস্তফাপত্র নয়, বরং বিকল্প ব্যবস্থা অথবা স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব।
আরও পড়ুন:
সল্টলেকের বাসিন্দা এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির ট্রাইব্যুনালের শুনানিকেন্দ্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে জোকায়।
প্রায় ২২ কিলোমিটারের এই পথ অতিক্রম করতে দিনে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় চলে যাচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।আরও পড়ুন:
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করলে একটি সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থানের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বক্তব্য, "বাড়ি থেকে যাতায়াতের দূরত্বটা এক বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকাল ৯:৪৫ মিনিটে সল্টলেকের বাড়ি থেকে বের হলেও জোকা পৌঁছাতে ১১:১৫ হয়ে যায়।
ওই এলাকায় একাধিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থাকায় এবং গাড়ি পার্কিংয়ের ভিড়ে ২০-২৫ মিনিট সময় অপচয় হয়। রাস্তার অবস্থাও ভালো নয়। চিঠিতে আমি এই সমস্যার কথাই উল্লেখ করেছি, কোনো পদত্যাগপত্র জমা দিইনি।"আরও পড়ুন:
কাজের শুরুতেই এই দূরত্বের বিষয়টি আগে থেকে তাঁদের জানানো হয়নি বলে দাবি করেন প্রাক্তন বিচারপতি।
তিনি জানান, শুরুতে অল্প কয়েক মাসের কাজ এবং কম মামলার কথা ভাবলেও বর্তমানে তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত মুর্শিদাবাদ জেলার সাড়ে পাঁচ লক্ষের বেশি আবেদনের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে, যার মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০টি মামলার সমাধান সম্ভব হয়েছে। বিচারপতির কথায়, “আমার কাজটা করতে ভালো লাগে। আমি চাই কাজটা করি। যদি কাছাকাছি কোথাও দেওয়া হয়, আমি কাজটা করতে পারি। আমি বলেছি, আমাকে ২১ দিনের মধ্যে জানাবে যে ওয়ার্ক ফর্ম হোম করতে দেওয়া হবে কিনা, কিংবা ভেন্যুটাকে বদলে সল্টলেকের কাছাকাছি দেওয়া হবে কিনা। এছাড়াও ট্রাইব্যুনালের আরও কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলি আমরা আলোচনা করব প্রধান বিচারপতি কিংবা কমিশনের সঙ্গে।”