পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানে সহ-পাইলটের প্রাণঘাতী হামলা ও বিমান ধ্বংসের চেষ্টা নস্যাৎ করে ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই অসমসাহসী পাইলটের সঙ্গে শুক্রবার ভিডিও কলে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্মিত মাচ্ছারের সাহসিকতা, ধৈর্য এবং উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আপনি দেশ ও ১৪০ কোটি ভারতীয়র সম্মান বৃদ্ধি করেছেন।"

বুধবার সকালে ওমানের নাগরিক ওই সহ-পাইলট মাঝআকাশে হঠাৎ করেই ছুরি দিয়ে আক্রমণ চালান ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ওপর।

রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাটিতে পড়ে গিয়েও দমে যাননি তিনি। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স (Boeing 737 Max) বিমানটি প্রায় ১৪,০০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার সময় তিনি কোনোক্রমে ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ককপিটে ঢুকে আততায়ী সহ-পাইলটকে কাবু করেন। বিমানে থাকা অন্য দুই ব্যাকআপ পাইলটের সহায়তায় বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

হাসপাতালের বেড থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ১০ মিনিটের কথোপকথনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন গুজরতের বাসিন্দা স্মিত মাচ্ছার। ১৭ বছর ধরে বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব সামলানো স্মিত জানান, "আমার শরীরে একাধিক ক্ষত ছিল, আমি মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলাম। চোখ বন্ধ থাকলেও বুঝতে পারছিলাম বিমানটি দ্রুত নিচে ভেঙে পড়ছে। তখন মনে হলো আমি কিছু না করলে আজ আমরা কেউ বাঁচব না।

নিজের প্রাণের চেয়েও যাত্রীদের বাঁচানোটা জরুরি ছিল।"

তিনি আরও জানান, চরম বিপদের মুহূর্তে তিনি নিরন্তর 'হনুমান চালিশা' পাঠ করছিলেন। "আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বরই আমাকে বাঁচিয়েছেন। দেশে না থাকলেও আমরা আমাদের সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যেতে পারি না," বলেন মুম্বই থেকে সম্প্রতি দুবাইয়ে স্থানান্তরিত হওয়া এই ভারতীয় পাইলট।

ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "জীবন ও মৃত্যুর সাথে লড়াই করেও আপনি নিজের জীবনের পরোয়া না করে শত শত যাত্রীর সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আপনি একটি ঐতিহাসিক মহৎ কাজ সম্পন্ন করেছেন। আজ গোটা দেশ ও বিশ্ববাসী আপনাকে নিয়ে গর্বিত।"