পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিহারের বেগুনসরাই জেলায় এক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মীকে হোটেলের ঘরে অস্ত্র দেখিয়ে গণধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ডিংয়ের অভিযোগ উঠল। মঙ্গলবার গভীর রাতে নেপাল সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় মূল অভিযুক্ত ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যেখান থেকে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
 
পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ওই নারী জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি নিজ এলাকার ‘জীবিকা’ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারী সদস্যদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি আদায় করছিলেন। সেই সময় তাঁর প্রতিবেশী বিক্রম কুমার সাহনি তাঁকে চক্রান্ত করে নিজের মোটরসাইকেলে তুলে নেন।


 
অভিযোগকারিণীর দাবি অনুযায়ী, বিক্রম কুমার সাহনি প্রথমে তাঁকে একটি সিনেমা হলে নিয়ে যান। সেখান থেকে বিক্রমের আত্মীয় রোহিত কুমার কথা বলার অজুহাতে তরুণীকে নিকটবর্তী 'হোটেল ব্লু ডায়মন্ড'-এ নিয়ে যান। হোটেলের ২০৩ নম্বর ঘরে নিয়ে গিয়ে রোহিত কুমার তাঁকে ধারালো অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করেন এবং শারীরিক নির্যাতন চালান। নির্যাতনের সময় অভিযুক্ত মোবাইল ফোনে ঘটনার একটি ভিডিও রেকর্ড করে। তরুণী কোনোমতে হোটেল থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে পরিবারকে বিষয়টি জানান এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হতে দেখা যায়।
 
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেগুনসরাই পুলিশের দেওয়া এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার সময়ক্রম বের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত বিক্রম কুমার সাহনি এবং রোহিত কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় অন্য কোনো জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।