পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে বাম ছাত্র সংগঠনের আয়োজিত সভাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি। বিরাটির বণিক মোড়ে বামফ্রন্টের সভামঞ্চে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর সুবিশাল ছবি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। হামলা রুখতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বামফ্রন্ট ও এসএফআইয়ের মহিলা কর্মী-সমর্থকরা। হামলায় এক কর্মীর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে।

এই হামলার ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে সিপিএম নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটির বণিক মোড়ে এসএফআইয়ের একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং উত্তর দমদমের প্রার্থী দীপ্সিতা ধর-সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য রাখার কথা ছিল। অভিযোগ, সভা শুরুর প্রাক্কালে মাইক লাগানোর সময় থেকেই একদল যুবক হুমকি দিতে শুরু করে।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা সভাস্থলে চড়াও হয়ে মঞ্চ এবং দর্শকদের বসার চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। এমনকি সেখানে থাকা মহাত্মা গান্ধীর একটি বড় পোস্টারও ছিঁড়ে ফেলা হয়। বাধা দিতে গেলে বাম কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হামলার জেরে সভা কার্যত পণ্ড হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিমতা থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এসএফআই নেত্রী দীপ্সিতা ধর ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি দাবি করেন, আক্রমণকারীদের স্পষ্ট চিহ্নিত করা গিয়েছে এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই গান্ধী জয়ন্তীর সভায় এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলার মুখে পিছু না হটে সংশ্লিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়েই পুনরায় সভা করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার জানান, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও কর্মী বা নেতার দূরতম যোগাযোগ নেই। সভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে কিছু উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।