পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে হাজার হাজার মানুষের বিশাল সমাবেশের পর এবার দিল্লির রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র নেতা অভিজিৎ ডিপকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন তিনি। শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই "চলো দিল্লি" কর্মসূচির আহ্বান জানান। অভিজিৎ ডিপকে স্পষ্ট জানান, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাসী সমস্ত সাধারণ নাগরিক ও তরুণ প্রজন্মকে এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।


 
পুলিশের অনুমতি না থাকা এবং কড়া রোদ উপেক্ষা করেই হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ও সাধারণ মানুষ মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে জড়ো হন। রাজনৈতিক শিবিরের মতে, ঐতিহাসিক আন্দোলনের এই ময়দান থেকে যে সুর চড়েছে, তা সর্বভারতীয় স্তরে বড় বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্দে দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা অবিলম্বে স্থগিত বা 'ফ্রিজ' করতে হবে।

 
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও যে রাজ্যগুলিতে বিজেপি জিততে পারেনি, সম্প্রতি ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ দিয়ে সেখানে সাফল্য অর্জন করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নিবন্ধিত ৯৭ কোটি ভোটারের মধ্যে এনডিএ ও ইন্ডিয়া জোটের জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ২ শতাংশ। সেখানে দুই বছরে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনা অত্যন্ত সন্দেহজনক। কেন্দ্র সরকারের 'এক দেশ, এক নির্বাচন' নীতিকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, শাসকদলের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো "এক দেশ, এক নির্বাচন, এক দল"।
 
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের পর ফের দুই মাসের মাথায় ছাত্র ও তরুণদের রাস্তায় নামতে হওয়ায় কেন্দ্র সরকারের প্রশাসনিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা। ১০ অক্টোবরের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইস্তফা না দিলে দেশজুড়ে যুবসমাজ দিল্লিতে বড়সড় রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।