পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মহিলাদের বডি শেমিং বা তাঁদের শরীর নিয়ে বিকৃত মন্তব্য এবং গালিগালাজ করলে তা তাঁদের শালীনতা লঙ্ঘনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। সম্প্রতি একটি মামলার প্রেক্ষিতে এমনটাই জানাল কর্ণাটক হাই কোর্ট। উল্লেখ্য, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় কোনও মহিলার সম্ভ্রমহানি করার উদ্দেশ্যে কোনও কথা বলা, কাজ করা বা তাঁর গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।

তবে বডি শেমিংয়ের ক্ষেত্রে এই ধারাটি প্রযোজ্য হবে না বলে স্পষ্ট করেছে আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত বেঙ্গালুরুতে। সেখানকার এক মহিলা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন যে, দুই মহিলা এবং এক ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর বন্ধুদের বডি শেমিং করার পাশাপাশি বর্ণবিদ্বেষী ও অশ্লীল ভাষায় অপমান করেছেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৫০৯ ধারায় এফআইআর দায়ের করে এবং পরবর্তীতে চার্জশিটও জমা দেয়।
কিন্তু কর্ণাটক হাই কোর্টের বিচারপতি এস আর কৃষ্ণ কুমারের বেঞ্চ সম্প্রতি দুই অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে চলা ওই ফৌজদারি মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে।
মামলাটি বাতিল করার কারণ হিসেবে হাই কোর্ট জানিয়েছে, চার্জশিট ও জমা দেওয়া নথিপত্রে এমন কোনও নির্দিষ্ট উপাদান ছিল না যা দিয়ে আইপিসি-র ৫০৯ ধারার অপরাধ প্রমাণ করা যায়। এর পাশাপাশি, ওই একই ঘটনায় অভিযুক্ত তৃতীয় ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আইনি কার্যক্রমও ২০২৪ সালের জুন মাসে বাতিল করে দিয়েছিল আদালত। যেহেতু ওই দুই মহিলার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি তৃতীয় অভিযুক্তের অভিযোগের অনুরূপ ছিল, তাই এক্ষেত্রে ‘সমতা নীতি’ প্রয়োগ করেছে হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একই পরিস্থিতিতে একই ধরনের অভিযোগের সম্মুখীন হলে অভিযুক্তদের প্রতি সাধারণত একই ধরনের আইনি আচরণ করা উচিত।