পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রসূতি বিভাগের লেবার রুমে বোরকা বা হিজাব পরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে (জিএমসি) তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন নার্সিং ইন্টার্নরা। প্রসূতি বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বুধবার ও বৃহস্পতিবার কাজ বয়কট করে হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন ইন্টার্নরা। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভ উঠলেও ঘটনাকে কেন্দ্র করে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
 
আন্দোলনকারী ইন্টার্নদের দাবি, বুধবার বিভাগের প্রধান ডঃ মধু ছিব বোরকা পরে আসার কারণে এক নার্সিং ছাত্রীকে লেবার রুম থেকে বের করে দেন।

বৃহস্পতিবারও একই কারণে আরও দুই ছাত্রীকে ঘরের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
 
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে একটি সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার পর ইন্টার্নরা বিক্ষোভ তুলে নেন। ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডঃ এরফান তাসাদ্দুক বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান, ধর্মীয় পোশাকের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। লেবার রুম ও অপারেশন থিয়েটারের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় যেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, সেখানে নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে ঢিলেঢালা পোশাক শক্ত করে বাঁধতে এবং ওপর থেকে গাউন পরতে বলা হয়েছিল।

 
বিক্ষোভ থামলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে উপত্যকার রাজনৈতিক অলিন্দে। ডোডার বিধায়ক মেহরাজ মালিক বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সকলিনা ইতুর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অন্যদিকে ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) প্রধান মুখপাত্র তানভীর সাদিক বলেন, ভারতের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে নিজের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার দেয়। একজন নারী হিজাব পরবেন কি পরবেন না, তা তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাধীনতার বিষয়— এর ওপর কেউ কোনো বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিতে পারে না।