পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে নন্দীগ্রামের বীরুলিয়া বাজারে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট পাওয়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সে সময়ে মমতার পায়ে আদৌ কোনও ফ্র্যাকচার হয়নি বলে দাবি করে শনিবার সকালে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের একটি রিপোর্ট প্রমাণ হিসেবে সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে গোটা ঘটনার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন থাকায় এবং সেখানে বর্তমানে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকায়, ভোটপর্ব মেটার পরই এই তদন্তপ্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের দিনকুড়ি আগে নন্দীগ্রামের বীরুলিয়ায় প্রচার চলাকালীন পায়ে আঘাত পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পা ভেঙে গিয়েছে বলে জানানো হয় এবং পরবর্তীতে প্লাস্টার করা পায়ে হুইলচেয়ারে বসেই ‘ভাঙা পায়েই খেলা হবে’ স্লোগান তুলে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী প্রচার চালান তিনি। শুক্রবার নন্দীগ্রামের এক নির্বাচনী প্রচারসভায় এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, একটি লোহার বিমে ধাক্কা লেগে গাড়ির দরজা সামান্য ফিরে এসে পায়ে লেগেছিল, কিন্তু কোনও ফ্র্যাকচার হয়নি।
ভালো পায়েই ব্যান্ডেজ বেঁধে নাটক করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা হয়েছিল এবং নন্দীগ্রামের মানুষকে বদনাম করা হয়েছিল।
শনিবার নবান্নে সেই দাবির স্বপক্ষে বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের নথি পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এক্স-রে প্লেট রোগী নিয়ে গেলেও হাসপাতালের রেকর্ডে রিপোর্ট সংরক্ষিত থাকে। সেই সময়ে তিনি পিজি হাসপাতালের সভাপতি এবং বর্তমানে পুলিশমন্ত্রী হিসেবে সেই সরকারি নথি তাঁর হাতে রয়েছে, যেখানে চিকিৎসকেরা স্পষ্টভাবে ‘নো ফ্র্যাকচার’ উল্লেখ করেছিলেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরেই প্রশাসনিক স্তরে এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।