পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: চিকিৎসকদের ওপর জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের আক্রমণ ও ধমক-চমকের ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, জনসেবার উদ্দেশ্যে নির্বাচনে জয়ী হওয়া মানেই অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকার পাওয়া নয়। আইনি শাসন বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি।
আরও পড়ুন:
মহারাষ্ট্রের থানে জেলার একটি পুর হাসপাতালে চিকিৎসকদের হেনস্থা ও মারধরের মামলায় শিবসেনা কর্পোরেটর রমেশ মাত্রে সহ চার অভিযুক্তের জামিন খারিজ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে।
আরও পড়ুন:
শীর্ষ আদালত তার ২৮ সেপ্টেম্বরের রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যতই ক্ষমতার শীর্ষে থাকুক না কেন, আইনের শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে কেউ নিজের কর্তৃত্ব দাবি করতে পারে না। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অভিযুক্ত শিবসেনা কর্পোরেটর ও অন্যদের আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
আরও পড়ুন:
বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, "জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা আসে ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে, কিন্তু সেই ক্ষমতার প্রয়োগ সবসময় আইনের অধীনেই হতে হবে। যখন কোনো জনপ্রতিনিধি জনগণকে ভয় দেখিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন তা কেবল ভুক্তভোগীকেই প্রভাবিত করে না, বরং পুরো বিচারব্যবস্থা ও আইনি শাসনের ওপর মানুষের আস্থা বিনষ্ট করে।
"আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় উল্লেখ করে বেঞ্চ জানায়, চিকিৎসা পেশার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা অত্যন্ত জরুরি ও কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষার কাজ করেন। কোনো হাসপাতালে ভয় বা অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হলে সাধারণ স্বাস্থ্য পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
আরও পড়ুন:
আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মহারাষ্ট্রের পালঘর সহ দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে জনপ্রতিনিধিদের এমন বেআইনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও শক্তি প্রদর্শনের খবর সামনে আসছে, যা সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, একজন জনপ্রতিনিধি নিজেকে পুলিশ, প্রশাসক বা আদালতের ভূমিকায় বসাতে পারেন না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনি পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।