পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভূমিধসে বারবার বিপর্যস্ত হওয়া শিলিগুড়ি ও সিকিমের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের স্থায়ী সংস্কারে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রক। যানজট নিরসন এবং পাহাড়ি পথে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সিকিমের রানিপুল থেকে রংপো পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার এলাকায় দুই লেনের উন্নত মহাসড়ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে পাহাড়ি রাস্তার ঝুঁকিপূর্ণ অংশে একাধিক টানেল এবং উঁচু সেতুপথ (ভাইয়াডাক্ট) নির্মাণ করা হবে। ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হতে চলা এই প্রকল্পের জন্য ৭০৬.৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং কাজ শেষ করার সময়সীমা ধরা হয়েছে প্রায় ১২ বছর।


এই প্রকল্পটি ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিওরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) চুক্তির অধীনে বাস্তবায়িত হবে। সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে দরপত্র গ্রহণ করা হবে এবং ১৭ নভেম্বর তা খোলা হবে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় বর্তমান সড়কটিকে সম্প্রসারিত করে রাস্তার দু’পাশে পাকা অংশ-সহ দুই লেনের মহাসড়কে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি, ভূমিধস এবং মাটি বসে যাওয়ার (সিঙ্কিং জোন) মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জানিয়েছেন, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক শুধুমাত্র সিকিম বা কালিম্পং নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর বর্ষায় ধসের কারণে এই সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত, পর্যটন এবং পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নিতীন গড়কড়ির কাছে আবেদন জানানো হচ্ছিল। সাংসদ আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শিলিগুড়ি, কালিম্পং এবং সিকিমের মধ্যে যাতায়াত যেমন নিরাপদ ও দ্রুত হবে, তেমনই ওই অঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটনেও নতুন যুগের সূচনা হবে।