পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গরু পাচারের সন্দেহে শিলিগুড়িতে দু’জনকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল। শনিবারের এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মৃতদের মধ্যে একজন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার এবং অন্যজন হরিয়ানার বাসিন্দা। নিহতদের পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই শিলিগুড়ি সংলগ্ন বাগডোগরা, মাটিগাড়া ও নকশালবাড়ি এলাকায় রাতে দামি গাড়িতে গবাদি পশু পাচারের অভিযোগ উঠছিল।

শুক্রবার গভীর রাতে মাটিগাড়ার তারাবাড়ি এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি চারচাকা গাড়ি ঢুকলে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা গাড়ি দুটি ঘিরে ফেলে গণধোলাই শুরু করেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ, পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার চালক, চোপড়ার বাসিন্দা শহিদ আখতারকে বড় পাথর দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চারচাকা গাড়িতে থাকা আরও চার যুবক পালানোর চেষ্টা করেন। উত্তেজিত জনতা তাঁদের গাড়িটি ভাঙচুর করে ধাওয়া করে।
বাগডোগরার ধিমাল বস্তি এলাকায় তাঁদের ধরে ফেলে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে ওই চার যুবক দৌড়ে বাগডোগরার ব্যাঙডুবি সেনা ছাউনিতে ঢুকে পড়েন। অবৈধভাবে প্রবেশ করার কারণে সেনা কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভরতি করে। সেখানেই শাদ মহম্মদ নামে হরিয়ানার এক যুবকের মৃত্যু হয়। গাড়িতে থাকা বাকি তিনজন আমির, আরিফ খান ও আক্রম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এঁরা সকলেই হরিয়ানার বাসিন্দা।
শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে চোপড়া থেকে শিলিগুড়িতে পৌঁছন নিহত শহিদের স্ত্রী। তিনি পুলিশের কাছে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে গরুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং শুক্রবার রাতে পিকআপ ভ্যান নিয়েই বেরিয়েছিলেন। গ্রামবাসীদের আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার কড়া নিন্দা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি কমিশনারেটের এসিপি (পূর্ব) অনির্বাণ মজুমদার জানিয়েছেন, মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।