পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) প্রধান ফটকের সামনে ফের তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। রবিবার বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বিক্ষোভকারীরা প্রতিষ্ঠানের মূল গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। ঘটনা চলাকালীন প্রতিষ্ঠানের ভেতর থাকা শিক্ষক ও পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে বাইরে থেকে ইট-পাটকেল ও জলের বোতল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অধ্যাপক দেবাশিস সেনশর্মা জখম হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
গত রবিবার এসআরএফটিআই-এর প্রেক্ষাগৃহে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন এসএফআই সমর্থক পড়ুয়ারা অশান্তি তৈরি করে এবং ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার জেরে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটবৃষ্টি ও সংঘর্ষ বাধে, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং পরবর্তীতে পুলিশ চারটি পৃথক মামলা রুজু করে। এমনকি রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ সরকারও জানিয়েছিলেন যে ভারতমাতা বা স্বামী বিবেকানন্দকে অবমাননাকারীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।
সেই ঘটনার প্রতিবাদেই এদিন অজয়নগর থেকে এসআরএফটিআই পর্যন্ত একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয় বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ।
মিছিলটি প্রতিষ্ঠানের ফটকের সামনে পৌঁছনো মাত্রই বিক্ষোভকারীরা গেট ঠেলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তখন আত্মরক্ষার্থে হেলমেট পরে দাঁড়িয়েছিলেন বহু পড়ুয়া ও অধ্যাপক। তাঁদের লক্ষ্য করে আচমকা বাইরে থেকে ইট ও জলের বোতল ছোড়া শুরু হয়, যার আঘাতেই আহত হন এক অধ্যাপক। অন্যদিকে, মঞ্চের নেতৃত্বের দাবি, ভেতর থেকে পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের ছোড়া জলের বোতলের আঘাতেই তাঁদের বেশ কয়েকজন সমর্থকও জখম হয়েছেন। সংগঠনের সদস্যরা সাফ জানান, ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি অবমাননার যোগ্য জবাব দিতেই তাঁদের এই প্রতিবাদ। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।