পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে ঝাড়গ্রামের ঘাগরা জলপ্রপাতে তলিয়ে গিয়েছিলেন বারুইপুরের বধূ প্রীতি দত্ত (৩৪)। ঘটনার পর টানা তল্লাশি চালিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। পুলিশ সুপার মানব সিংলা জানিয়েছেন, জলপ্রপাতের যে স্থানে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন, সেখানকারই একটি গভীর খাদে তাঁর দেহ আটকে ছিল।
আরও পড়ুন:
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের হরিহরপুর পঞ্চায়েতের বেনিয়াডাঙা বর্ধনপাড়ার বাসিন্দা রাজদীপ দত্ত তাঁর স্ত্রী প্রীতি ও সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে গত ২ অক্টোবর বেলপাহাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। দুপুরে ঘাগরা জলপ্রপাতের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় আচমকাই পা ফসকে জলে পড়ে যায় তাঁদের ছেলে।
সন্তানকে বাঁচাতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দেন। ছেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা গেলেও জলের প্রবল স্রোতে ভেসে যান প্রীতিদেবী। রাজদীপবাবু নিজে বেঁচে ফিরলেও স্ত্রীকে জল থেকে তুলতে পারেননি।আরও পড়ুন:
ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ বধূর সন্ধানে পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ) এবং স্থানীয়রা জোরদার তল্লাশি শুরু করে। জলের স্রোত বেশি থাকায় উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হয়।
তারাফেনি ব্যারাজের দিকেও তল্লাশি চালানো হয়। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর জানান, রবিবার ভোর পাঁচটা থেকে ফের নতুন করে তল্লাশি অভিযান শুরু হওয়ার পর অবশেষে এদিন সন্ধ্যায় দেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তিনি মৃতার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন।আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে। আগামী দিনে জলপ্রপাত এলাকায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। অন্যদিকে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুসংবাদ বারুইপুরের দত্ত পরিবারে পৌঁছলেও মৃতার অসুস্থ শাশুড়ি আরতি দত্তকে এখনও খবরটি জানানো হয়নি বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।