পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: তেল কূটনীতি ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। রবিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, যখনই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা চরম সংকটের মুখে পড়েছে, তখনই মস্কো নয়াদিল্লির পাশে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় উল্লেখ করে বিদেশমন্ত্রী বলেন, মানুষ ভালো কিংবা খারাপ কোনো ইতিহাসই সহজে ভুলে যায় না। ১৯৫০ সাল থেকে ভারতের প্রতি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমান রাশিয়ার অকুন্ঠ সমর্থনের কথা তুলে ধরে তিনি অতীতের বিভিন্ন উদাহরণ পেশ করেন।
জয়শংকর জানান, একসময় যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পাকিস্তানের সামরিক শাসনকে সমর্থন করছিল এবং আমেরিকা ইসলামাবাদকে সাহায্য করতে বঙ্গোপসাগরে নৌবহর পাঠিয়েছিল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়নই ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর মতে, প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিচার করে। তাই ইউরোপের চশমা দিয়ে ভারত রাশিয়াকে দেখবে না, বরং নিজেদের ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দুই দেশের বন্ধুত্ব সামরিক ও পরমাণু ক্ষেত্রের গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্য এবং জ্বালানি ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সুদৃঢ় হয়েছে।আরও পড়ুন:
রুশ তেল কেনা নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের সমালোচনারও কড়া জবাব দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে খোদ ওয়াশিংটনই একসময় ভারতকে রুশ তেল কিনতে উৎসাহিত করেছিল। ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার হলো দেশের নাগরিকদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা এবং জ্বালানির বড় ধরনের ঘাটতি রোধ করতে একাধিক উৎস থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা। পাশাপাশি, আলোচনার মাধ্যমে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর পক্ষেও তিনি জোরালো সওয়াল করেছেন। জয়শংকর মনে করিয়ে দেন, ২০২২ সালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, বর্তমান সময়টা যুদ্ধের নয়। তাই এই অন্তহীন সংঘাতের অবসান হওয়া অত্যন্ত জরুরি।