পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে কর্মীদের ওপর পুলিশের নজরদারি ও নোটিস পাঠানোর অভিযোগে সরব হলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। অভিযোগ, মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর পুলিশ দলের কর্মীদের আন্দোলন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের দিল্লির ভ্রমণ-খরচের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও পুলিশের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘একনায়কতন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
 
বুধবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও মহারাষ্ট্র পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান দীপকে। সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সিজেপি প্রধান দাবি করেন, শাসকদলের স্লোগান ও বাস্তবতার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।

তিনি বলেন, "‘এক দেশ, এক ভোট’ কেবলই একটা মুখরোচক স্লোগান ছিল। আসলে শাসকদলের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে ‘এক দেশ, এক রাজনৈতিক দল’ শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা।"
 
পুলিশের নোটিসের বয়ান নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তোলেন অভিজিৎ দীপকে। মহারাষ্ট্র পুলিশকে এতদিন দেশের অন্যতম সেরা পুলিশ বাহিনী বলে মনে করতেন উল্লেখ করে তিনি আফসোস প্রকাশ করেন যে, তারা এখন দিল্লি পুলিশের মতো আচরণ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "চন্দ্রপুর থেকে কেউ ১,০০০ বা ১,৫০০ টাকার ট্রেনের টিকিট কেটে দিল্লিতে গেলে তাতে পুলিশের কী ভূমিকা থাকতে পারে?
যাতায়াতের খরচের উৎস কেন জানতে চাওয়া হচ্ছে? পুলিশ নোটিসে উল্লেখ করেছে যে আন্দোলনটি ‘হিংসাত্মক’ হতে পারে। এত আগে থেকে পুলিশ কীভাবে বুঝল আন্দোলন হিংসাত্মক হবে? তারা কি আগে থেকেই কোনো ষড়যন্ত্র করে রেখেছে?" তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তাঁদের আন্দোলন মহাত্মা গান্ধী এবং ড. বি আর আম্বেদকরের অহিংস পথ অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।
 
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দীপকে। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, সিইসি পদত্যাগ না করলে ১০ অক্টোবর দিল্লির রাজপথে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।