পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথম পরীক্ষায় উৎসবের মেজাজে বিপুল ভোট পড়ল নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উভয় কেন্দ্রেই সামগ্রিক ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। এর মধ্যে রেজিনগরে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭৮.৪২ শতাংশ। তবে বিপুল জনসমাগমের মাঝেই দুই কেন্দ্রেই রিগিং ও প্রহসনের ভোট করানোর অভিযোগে একযোগে সরব হয়েছে বিরোধীরা। যদিও যাবতীয় অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে রেকর্ড মার্জিনে জয়ের দাবি করেছে শাসকদল বিজেপি।
মঙ্গলবার সকালে ভোট শুরু হতেই রেজিনগরে 'ভোটলুট'-এর অভিযোগ তুলে পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মমতা তৃণমূল ও গণতান্ত্রিক তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেস ও সিপিএম-ও গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগ তোলে। বুথ থেকে দলীয় এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়ে একযোগে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান মমতা তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী এবং কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফি। এ নিয়ে অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে রেজিনগর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস এবং পরে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় রাজ্য নেতৃত্ব।
অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ অভিযোগ করেন, তাঁদের অধিকাংশ এজেন্টদের জোর করে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে হারাতে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাহায্য করার পরিণামই আজ তাঁকে ভোগ করতে হচ্ছে। এদিকে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে আগামী ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণার দিন গণনাকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রেজিনগরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী তথা হুমায়ুন-পুত্র গোলাম নবি আজাদ। তিনি স্পষ্ট জানান, ফল কী হতে চলেছে তা সকলের কাছেই স্পষ্ট, তাই গণনাকেন্দ্রে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। তবে এই সব অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, রেজিনগরের সংখ্যালঘু মানুষ বাবরি মসজিদ নয়, কারখানা চান। ফলে রেজিনগরে বিজেপি সুবিধাজনক ব্যবধানে জিতবে এবং নন্দীগ্রামে জয়ের ব্যবধান আগের তুলনায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পাবে।
নন্দীগ্রামে নিজের ভোট দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, নন্দীগ্রামের ফলাফলে এবার রেকর্ড তৈরি হবে এবং বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ তাঁর নিজের পূর্বের জয়ের ব্যবধানকেও ছাপিয়ে যাবেন। মানুষ অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে নন্দীগ্রামেও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অভিযোগ, একাধিক বুথে তাঁদের এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং এক ব্লক সভাপতিকে অন্যায়ভাবে পুলিশ দিয়ে আটক করানো হয়েছে। বাম ও আইএসএফ-এর তরফেও একই অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হলেও, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগকেই ভিত্তিহীন বলে নস্যাৎ করেছে।