পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়া এবং তার প্রতিকারের অভাব নিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করল বোম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ। বিচারপতি অমিত এস জামসানদেকর এবং বিচারপতি বাল্মীকি মেনেজেসের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানান, নাম কাটা যাওয়ার পর ভোটারদের এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হচ্ছে, যেখানে তাঁদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের কোনো স্পষ্ট ও সহজ আইনি উপায় থাকছে না।

সান্টা ক্রুজ বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা পরেশ সালগাঁওকর ও তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যের দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট এই কড়া পর্যবেক্ষণ পেশ করে। নিজেদের বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই নতুন বাড়িতে স্থানান্তরিত হওয়ার পর ওই পরিবারের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছিল।

আবেদনকারীরা আদালতে জানান, ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য তাঁরা নিয়ম মেনে 'ফর্ম ৮' জমা দিয়েছিলেন।

কিন্তু ইআর ওনেট সফটওয়্যার এবং সিস্টেমের সীমাবদ্ধতার অজুহাতে তাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং ভোটার পরিচিতি রেকর্ড মুছে ফেলা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা তাঁদের 'ফর্ম ৬' পূরণ করতে বলেন— যা কেবল নতুন বা প্রথমবার ভোটার হওয়া নাগরিকদের নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট।

হাইকোর্ট এই নির্দেশের তীব্র বিরোধিতা করে জানায়, আগে থেকেই নিবন্ধিত একজন সাধারণ নাগরিককে নতুন ভোটারের জন্য তৈরি ফর্ম ৬ পূরণ করতে বাধ্য করা অসংগত। এর ফলে নাগরিকদের ভুয়ো তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইনি ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে।

নির্বাচনী ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০-এর ২১ নম্বর নিয়মের উল্লেখ করে ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয় যে, ভোটার তালিকা থেকে কোনো নাগরিকের নাম কাটার আগে তাঁকে নোটিশ দিয়ে শুনানির সুযোগ দেওয়া নির্বাচন কমিশনের আইনি বাধ্যবাধকতা।

আদালত নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে প্রশ্ন করে, "কমিশনের গাইডলাইনের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো যোগ্য নাগরিক যেন বাদ না পড়েন। যদি এই জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকরাই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান, তবে এই বিষয়ের প্রতিকার কীভাবে সম্ভব?"

নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী গৌরীশ অগ্নি আদালতে যুক্তি দেন, ভোটাররা এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হলে ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে ভোটার কার্ড বা ইপিআইসি স্থানান্তরের বিকল্প রয়েছে এবং পূর্ববর্তী ভোটার তালিকাই বহাল থাকে। তবে বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়, প্রযুক্তি বা প্রশাসনিক ত্রুটির দোহাই দিয়ে নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। মঙ্গলবার এই মামলায় পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।