উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করে তোলার লক্ষ্যে নিমপীঠে অনুষ্ঠিত হল একদিনের প্রাকৃতিক কৃষি বিষয়ক কর্মশালা। সোমবার নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে আয়োজিত এই কর্মশালার বিষয় ছিল— ‘মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার ও টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক কৃষির প্রয়োগ।’নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান পরিষদের কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কলকাতার যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সহযোগিতায় ছিল অ্যামিজেন ফাউন্ডেশন, এসভি বায়োটেক ও ডায়না বায়োটেক। কর্মশালায় কৃষি বিজ্ঞানী, সরকারি আধিকারিক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রগতিশীল কৃষক-কৃষাণিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের চেয়ারম্যান স্বামী সদানন্দজি মহারাজ, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান ও বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. চন্দন কুমার মণ্ডল, কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কলকাতার ড. প্রদীপ দে ও ড. অভিজিৎ হালদার, এসভি বায়োটেক ও ডায়না বায়োটেকের ড. বিনোদ কুমার পাটিল এবং অ্যামিজেন ফাউন্ডেশনের ড. আমিনুল ইসলাম। এছাড়াও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, নদিয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত বিজ্ঞানী এবং সিআরআইজেএএফের বিজ্ঞানী ও প্রতিনিধিরাও কর্মশালায় অংশ নেন।স্বাগত বক্তব্যে ড. চন্দন কুমার মণ্ডল বলেন, প্রাকৃতিক কৃষির লক্ষ্য শুধুমাত্র রাসায়নিকউপকরণের ব্যবহার কমানো নয়। মাটির স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে কৃষিকে টেকসই করে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। কৃষকদের মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে যুক্ত করে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রাকৃতিক কৃষির কার্যকর মডেল গড়ে তোলার উপর তিনি গুরুত্ব দেন।স্বামী সদানন্দজি মহারাজ বলেন, “সমস্যা থেকে পিছিয়ে গেলে চলবে না; কাজের মধ্য দিয়েই উন্নতি আসে।” প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিকাজ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।ড. প্রদীপ দেবলেন, “মাটিকে শুধু সার দেওয়ার জায়গা হিসেবে না দেখে, মাটির স্বাস্থ্যকে কৃষির মূল সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে।” মাটি পরীক্ষা, সুষম পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং উপকারী অণুজীব সংরক্ষণের উপর তিনি জোর দেন।অন্যদিকে ড. অভিজিৎ হালদার প্রাকৃতিক কৃষিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, স্থানীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
কর্মশালায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, মাটির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি কৃষকরা তাঁদের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতার কথা বিশেষজ্ঞদের সামনে তুলে ধরেন। তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন উপস্থিত কৃষি বিজ্ঞানীরা।
আয়োজকদের দাবি, বিজ্ঞানী, সরকারি দফতর এবং কৃষকদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ও টেকসই কৃষির প্রসার ঘটানোই এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে উৎপাদন শীলতা বজায় রাখা এবং কৃষকদের নিরাপদ ও লাভজনক কৃষির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।