পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০১৯ সালের জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া হিংসা এবং ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র, প্রবেশ বর্মা এবং অন্যদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা 'হেট স্পিচ'-এর অভিযোগে এফআইআর (FIR) রুজু করার আর্জি খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। কথিত উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য ওই নেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে এই আবেদনটি দায়ের করা হয়েছিল।

উচ্চ আদালতের এই রায় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা একই ধরণের অন্যান্য আইনি আবেদনের ক্ষেত্রেও এক বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসেই দিল্লির একটি নিম্ন আদালত ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গা সম্পর্কিত পৃথক একটি অভিযোগে কপিল মিশ্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিতে অস্বীকার করে।

অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পাওয়ার কপিল মিশ্র, দয়ালপুর থানার তৎকালীন ওসি, বিজেপি বিধায়ক মোহন সিং বিষ্ট এবং প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক জগদীশ প্রধান ও সতপাল সংসদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের আবেদনটি খারিজ করেছিলেন।

তবে আদালত সেই আবেদনটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান না করে সেটিকে 'ব্যক্তিগত অভিযোগ' হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দেয় এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা-র অধীনে অভিযোগকারীকে তথ্যপ্রমাণ পেশের সুযোগ দেয়। দিল্লি পুলিশ শুরু থেকেই এফআইআর-এর বিরোধিতা করে আদালতকে জানিয়েছিল যে কপিল মিশ্রকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে ২০০৫ সালের নভেম্বরে একটি সেশনস কোর্ট এফআইআর নম্বর ৫৯/২০২০-এর অধীনে কপিল মিশ্রের বিরুদ্ধে আরও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এপ্রি্ল ২০২৫-এর একটি নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে দেয়।

বিশেষ বিচারক দিগ বিনয় সিং তাঁর আদেশে জানিয়েছিলেন, মামলাটি যখন আগেই একটি বিশেষ আদালতে বিচারাধীন ছিল, তখন ম্যাজিস্ট্রেট বিএনএসএস-এর ১৭৫(৩) ধারা (যা সিআরপিসির ১৫৬(৩) ধারার সমতুল্য) প্রয়োগ করে তার এখতিয়ার লঙ্ঘন করেছিলেন। সেশনস কোর্ট নিম্ন আদালতের সেই পদক্ষেপকে "ত্রুটিপূর্ণ তত্ত্ব গঠন" আখ্যা দিয়ে আরও তদন্তের আদেশটিকে বেআইনি ও টিকবে না বলে ঘোষণা করে। সুনির্দিষ্ট তদন্ত রিপোর্ট পেশের পর ও বিশেষ আদালত বড় ষড়যন্ত্রের মামলাটির রূপরেখা তৈরি করার পর নীচুতলার আদালতের এমন পদক্ষেপ আইনিভাবে সঠিক ছিল না। এরপর দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এই খারিজের আদেশে বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন কপিল মিশ্র ও প্রবেশ বর্মা।