পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-এর বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মকে বিকৃত করার এবং 'হিন্দুত্ব'-এর নামে দেশকে ধর্মীয় ভিত্তিতে মেরুকরণের গুরুতর অভিযোগ তুললেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ। একই সাথে অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ ও অনুদানের ফান্ড নিয়ে আর্থিক অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন তিনি। কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্যের পর বিজেপি নেতৃত্ব এবং সাধু-সন্তদের একাংশের তরফ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

ধর্মীয় শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে উজ্জয়িনী থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত 'সনাতন স্বাভিমান যাত্রা' নামে একটি পদযাত্রার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ৭৯ বছর বয়সী কংগ্রেস নেতা এই বক্তব্য পেশ করেন।

কংগ্রেস প্রবীণ নেতার দাবি, সংঘ পরিবার ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সাভারকরের তৈরি করা 'হিন্দুত্ব' শব্দকে প্রচার করে দেশের হিন্দু-মুসলিম, হিন্দু-শিখ এবং হিন্দু-খ্রিস্টানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছে।

দিগ্বিজয় সিংহের অভিযোগ, বেদ, উপনিষদ বা পুরাণের মতো হিন্দু ধর্মগ্রন্থে কোথাও 'হিন্দু' শব্দটি নেই, সেখানে কেবল 'সনাতন ধর্ম'-এর কথা রয়েছে। আরএসএস ও ভিএইচপি এই সনাতন ঐতিহ্যকেই বিকৃত করছে। রাম শিলা ও রাম মন্দির নির্মাণের জন্য সংগৃহীত কোটি কোটি টাকার অনুদান তছরুপ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইকে "আরএসএস এজেন্ট" আখ্যা দিয়ে দিগ্বিজয় বলেন, সনাতন ধর্মের সাথে চম্পত রাইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। ভিএইচপি-র সংগৃহীত অর্থ বিজেপির নির্বাচনী ফান্ড ও ভবন নির্মাণে ডাইভার্ট করা হচ্ছে। দিগ্বিজয় সিংহের এই বয়ানের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মধ্যপ্রদেশের ক্যাবিনেট মন্ত্রী বিশ্বাস সারং বলেন, দিগ্বিজয় সিংহ সবসময় সনাতন ধর্ম, সাধুসন্ত এবং হিন্দু পূজারীদের অপমান করে আসছেন।

তিনি ক্রমাগত তোষণ ও বিভাজনের রাজনীতি করছেন। অনভিপ্রেত ও ভিত্তিহীন মন্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বিজেপি বিধায়ক রাম কদম কটাক্ষ করে বলেন, "ইনি সেই দিগ্বিজয় সিংহ যিনি হিন্দু গেরুয়া রঙকে সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত করেছিলেন এবং 'গেরুয়া সন্ত্রাস' শব্দের প্রচলন করেছিলেন। এখন হঠাৎ করে ওঁর হিন্দুদের জন্য দরদ উথলে উঠছে।" ধর্মীয় মহলেও কংগ্রেস নেতার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা হয়েছে। মহন্ত সীতারাম দাস মহারাজ এবং মহামণ্ডলেশ্বর বিষ্ণু দাস মহারাজ এটিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করে জানান যে, প্রবীণ নেতাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য শোভা পায় না। রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাকারী কংগ্রেস নেতৃত্ব ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।