পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বাদ পড়া এবং নতুন যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় তুলতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করার কথা বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের। কিন্তু এই নির্দেশিকা ঘিরেই প্রবল আতঙ্কে ভুগছেন ভোটকর্মীদের একাংশ। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ক্ষুব্ধ মানুষদের রোষের মুখে পড়ার আশঙ্কায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) নীলম মিনার কাছে প্রতিটি বিএলও-র জন্য সশস্ত্র নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে ভোটকর্মীদের সংগঠন।
‘ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্যমঞ্চ’-এর সম্পাদক স্বপন মণ্ডল সিইও-কে দেওয়া চিঠিতে রাজ্যের মোট আটটি জেলার স্পর্শকাতর এলাকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

এই জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং হুগলি ও কলকাতার একাংশ। সংগঠনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়ার নেপথ্যে বিএলও-দের নিজস্ব কোনও ভূমিকা থাকে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও, অতীতে এর দায় বিএলও-দের উপর চাপিয়ে তাঁদের হেনস্থা করা হয়েছে। আসন্ন সমীক্ষায় বাড়ি বাড়ি গেলে ফের একই রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ভেবেই তাঁরা প্রত্যেক বিএলও-র সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাকর্মী বা বাহিনী মোতায়েনের আর্জি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গক্রমে স্বপন মণ্ডল জানিয়েছেন, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’ বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণ দেখিয়ে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, সংগঠনের দাবি অনুযায়ী যার মধ্যে অন্তত ১৮ থেকে ১৯ লক্ষ ভোটার সম্পূর্ণ বৈধ ছিলেন। রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ করায় গোটা বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে গড়ায় এবং আইনি জটিলতা আরও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সাধারণ মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ক্ষুব্ধ। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নির্দেশিকা মেনে সেই বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম তোলার কাজ শুরু হলেও, সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আঁচ বিএলও-দের উপর এসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কায় দিন গুনছেন ভোটকর্মীরা।