দিল্লি-এনসিআরে একের পর এক নারী ও নাবালিকার বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের ঘটনায় দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ জানিয়েছে, মহিলারা যাতে দিনের যে কোনও সময়ে, এমনকি রাতেও, রাস্তাঘাট ও গণপরিবহণে নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আদালত জানিয়েছে, অপরাধীদের মধ্যে আইন ভাঙলে কঠোর শাস্তির ভয় তৈরি করা জরুরি। একইসঙ্গে শুধুমাত্র অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, আগে থেকেই অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি যৌন অপরাধের প্রেক্ষিতে আদালত দিল্লির পার্ক, রাস্তা, গণপরিবহণ, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সহ মহিলাদের যাতায়াতের জায়গাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি কোথায় নিরাপত্তার ঝুঁকি বেশি, তা চিহ্নিত করে নজরদারি, আলো ও টহলদারি ব্যবস্থা জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।

জাতীয় যৌন অপরাধী তথ্যভান্ডার কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাও জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত। পুনরাবৃত্তি করে যৌন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং আইনসম্মত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ওই তথ্যভান্ডার কতটা কাজে লাগানো হচ্ছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশকে বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক একটি চলন্ত বাসে নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা এবং দিল্লির একটি পার্কে নাবালিকার উপর কথিত গণধর্ষণের মতো ঘটনায় আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০১২ সালের নির্ভয়া-কাণ্ডের পর এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব পরিস্থিতি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ৫ অক্টোবর মামলাটি ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।