পুবের কলম প্রতিবেদক: "হাত-পাভেঙে দিত, এভাবে মেরেফেলল?" আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে গণপিটুনিতে নিহত সাহিদ আখতারের খুনের বিচার চাইলেন স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা। ঘটনার পরবাগডোগরা থানায় লিখিতঅভিযোগ জানাতে গিয়ে চোখে একরাশ জল নিয়ে তিনি বললেন, তাঁর স্বামীগত ১০বছর ধরেভাড়ায় গবাদি পশুপরিবহনের কাজ করতেন।তিনি কোনওঅপরাধী বাগরু পাচারকারী ছিলেননা। তাঁর ও তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ যারা নষ্ট করেছে তাদের আইনের পথে ন্যায় বিচারের দাবি তুলেছেন রাজিয়া।

জানা যায়, নিহত ব্যক্তি উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থানার সোনাপুরের বাসিন্দা।

  সাহিদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। তিনি কেবল গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শুক্রবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরদিন সকালে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন পেয়ে রাজিয়া জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর গাড়ি আটকে গ্রামবাসীরা মারধর করছে। নিহতের স্ত্রীর প্রশ্ন, "গ্রামবাসীরা ওকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারত! কিংবা আমাদের জানাতে পারত। কিন্তু তা না-করে একবারে পিটিয়ে মেরে দিল!
মারারও তো একটা ধরণ থাকে! হাত-পা ভেঙে দিত, এভাবে মেরে ফেলল?" তাঁর কথায়, "আমার ১৯ বছরের মেয়ে সহ ৩টি সন্তান রয়েছে। ছোট ছেলের বয়স মাত্র ৬ বছর। স্বামী উচ্চ রক্তচাপ, সুগার ও রক্তের সমস্যায় ভুগছিলেন, তবুও তিনিই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী। এখন ওদের কে দেখবে?
" খুনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানার তারাবাড়ি এলাকার বালাসন নদীর সংলগ্ন অঞ্চলে একটি পিকআপ ভ্যানে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন গাড়িটিকে আটকায়। গবাদি পশুগুলি কোথায় এবং কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা যে উত্তর দেন, তাতে সন্তুষ্ট হয়নি স্থানীয়দের একাংশ। এরপরই উত্ত্যক্ত জনতা গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের টেনে-হিঁচড়ে বের করে বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মারধরের হাত থেকে বাঁচতে অভিযুক্তরা মাটিগাড়া থেকে পালিয়ে পাশের বাগডোগরা থানার তারাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে সেখানেও তাঁদের ঘিরে ধরে পুনরায় গণপিটুনি দেওয়া হয়। অভিযোগ, ৪৫ বছর বয়সী সাহিদ আখতারের মাথা বড় পাথর দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।