পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বুধবার দার্জিলিঙে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবসের মেগা সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড় সফরের প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। ওইদিন দার্জিলিঙের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সেদিনই তাঁর কলকাতায় ফিরে আসার কথা রয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতায় পূর্ত দপ্তরের ময়দান তাঁবুতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছিলেন মোর্চা সভাপতি বিমল গুরুং এবং সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি। সেই বৈঠকে পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তাঁরা।

নবান্ন সূত্রের খবর, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন যে, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে দিল্লিতে কোনও জরুরি তলব না থাকলে তিনি অবশ্যই ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই বুধবার তাঁর এই যোগদান প্রায় নিশ্চিত বলে জানা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিমল গুরুঙের নেতৃত্বাধীন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা বর্তমানে কেন্দ্রে এনডিএ জোটের অন্যতম শরিক। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড় এবং সমতলে নিজেদের প্রভাব থাকা একাধিক আসনে বিজেপি প্রার্থীদের পূর্ণ সমর্থন করেছিল মোর্চা।
ভোটবাক্সেও তার ইতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়। উত্তরবঙ্গের একাধিক আসনে বড় ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং পাহাড়ের এই তিনটি বিধানসভা আসনেই জয়লাভ করেছে বিজেপি। নির্বাচনের আগে ও পরে বিজেপি এবং মোর্চার মধ্যে সম্পর্ক আরও নিবিড় হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর এই পাহাড় সফরকে রাজ্য সরকারের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের প্রাক্কালে পাহাড়ের পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী ও মোর্চা নেতৃত্বের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, বুধবারের এই সমাবেশে মোর্চা নেতৃত্বের পাশাপাশি পাহাড়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।