পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৭.৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি। মোট ১৯ লক্ষ ৫ হাজার ভোটারের এই কেন্দ্রে প্রথম দু'ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ২০.২৯ শতাংশ ভোট পড়েছে লহরীঘাট বিধানসভা কেন্দ্রে এবং সবচেয়ে কম ১৩.৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে নগাঁও-বটদ্রবা এলাকায়।
কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ পদত্যাগ করে বিজেপির টিকিটে দিসপুর থেকে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কারণেই নগাঁও লোকসভা আসনে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই কেন্দ্রে মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হচ্ছে ত্রিমুখী। বিজেপির প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইএএস অফিসার দেবাশিস শর্মা, কংগ্রেস প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক শিবমণি বোরা এবং এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমলের মধ্যেই মূল টক্কর। এদিন জাগিরোড বিধানসভা এলাকার মায়ং হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেবাশিস শর্মা জানান, যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার চূড়ান্ত অধিকার সাধারণ ভোটারের হাতেই রয়েছে। অন্যদিকে, নগাঁও-বটদ্রবা এলাকার মাজগাঁও প্রাইমারি স্কুলে ভোট দেওয়ার পর কংগ্রেস প্রার্থী শিবমণি বোরার দাবি, বিজেপি এবং এআইইউডিএফ আদতে একই, তবে কংগ্রেসই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই আসনটি ধরে রাখবে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মোট ২,৩১২টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের (৫টি সহায়ক বুথ-সহ) মধ্যে ৬২৪টি বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই কেন্দ্রে ৯ লক্ষ ৪৩ হাজার মহিলা এবং ৫০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার-সহ মোট ১৯ লক্ষ ৫ হাজার নাগরিক তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসনে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে মরিয়া শাসকদল বিজেপি। অন্যদিকে, কংগ্রেস নিজেদের সমর্থন ধরে রাখতে এবং গত এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে ১৬ জন বিধায়ক থেকে ২ জনে নেমে আসা এআইইউডিএফ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জোর লড়াই চালাচ্ছে। আগামী ৯ অক্টোবর এই উপনির্বাচনের ভোটগণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে।