পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: চলমান বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার মাঝে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া আবেদন জমা দিয়ে নাম ছাঁটাইয়ের চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব ব্যক্ত করলেন তেলেঙ্গানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সি সুদর্শন রেড্ডি। ভোটার তালিকা থেকে কোনো ব্যক্তির নাম বাদের জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৭’-এর ব্যাপক অপব্যবহারের অভিযোগ উঠতেই নির্বাচনী আধিকারিকদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সিইও নির্দেশ দিয়েছেন, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারা এবং ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালার ২০ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো ভুয়া ঘোষণাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে জেলা কালেক্টর, জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও ভোটার নিবন্ধক আধিকারিকদের সঠিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাতে হবে।
আরও পড়ুন:
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা আপত্তি জানানোর কাজে ব্যবহৃত হয় ‘ফর্ম ৭’।
তেলেঙ্গানায় এ পর্যন্ত মোট ২৮,৭৫৩টি ফর্ম ৭ জমা পড়েছে, যার মধ্যে কেবল হায়দরাবাদ থেকেই এসেছে প্রায় ৫,০০০টি আবেদন। ক্ষমতাসীন কংগ্রেস এবং আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম অভিযোগ তুলেছে যে, বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাইকারি হারে ভুয়া ফর্ম ৭ জমা দিচ্ছে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের মুখপাত্র সৈয়দ নিজামুদ্দিন অভিযোগ করেছেন যে, ভোটার তালিকার তথ্য চুরি করে ছাঁটাইয়ের উদ্দেশ্যে আগে থেকেই নাম ছাপানো (Pre-printed) ফর্ম ৭ প্রস্তুত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কাছে এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন: "কারা ভোটার তালিকা ডাউনলোড করল, কীভাবে পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা হলো এবং কে এই ফর্মগুলো ছাপিয়ে বিতরণ করল?"আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়েইসি ক্ষোভ প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দেন, "ভুয়া ফর্ম ৭ জমা দেওয়া বন্ধ না হলে এবং কমিশন দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দিল্লির যন্তর মন্তরের চেয়েও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে হায়দরাবাদের রাজপথে।" অভিযোগের জেরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি যার তরফ থেকেই পাইকারি আবেদন জমা পড়ুক না কেন, তা বিশদভাবে যাচাই না করে নাম বাদ দেওয়া যাবে না। বুথ লেভেল অফিসারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে এবং ইসিআই সিস্টেমে তা আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেবলমাত্র ব্যতিক্রমীক্ষেত্রেই সশরীরে শুনানি হবে, যেখানে অনুমোদিত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পারিবারিক সদস্য ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।