পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদের মুশিরাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে চক্রান্ত করে প্রি-প্রিন্টেড ফর্ম-৭ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এস বালচন্দর নামের এক বিজেপি বুথ লেভেল এজেন্টর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। মুশিরাবাদ নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিক টি প্রবীণ কুমার রেড্ডির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৬ অক্টোবর হায়দরাবাদ কমিশনারেটের চিক্কাদপল্লি থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
সূত্রের খবর, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২১০ নম্বর পোিলং স্টেশনে ডিজিটালি প্রি-প্রিন্টেড ৩০টি ফর্ম-৭ নিয়ে হাজির হন বিজেপি এজেন্ট বালচন্দর। যে ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল, তাঁদের সঙ্গে বালচন্দরের সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল না।
পরবর্তীতে ১ অক্টোবর নির্বাচন আধিকারিকেরা সরজমিনে তদন্ত ও ক্ষেত্র সমীক্ষা চালান। তদন্তে দেখা যায়— নাম কাটার আবেদন করা ৩০ জন ভোটারই তালিকায় উল্লিখিত নিজ নিজ ঠিকানায় বৈধভাবে বসবাস করছেন।
জানা যায়, ওই ৩০ জন ভোটারের তালিকায় স্থানীয় কংগ্রেস বিএলএ শফিউদ্দিন এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। হায়দরাবাদের বাহাদুরপুরা এবং গোশামহল বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও একই ধরনের প্রি-প্রিন্টেড ফর্ম জমা পড়ার খবর মিলেছে।
এআইএমআইএম প্রধান তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তেলঙ্গানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন, গোশামহলেও একইভাবে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। গত ৫ অক্টোবর রাজ্যের সিইও সি সুদর্শন রেড্ডি স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, অনুসন্ধান শেষে ফর্ম-৬, ৬এ, ৭ বা ৮-এ ভুয়া তথ্য জমা দেওয়া প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, বিজেপির তরফে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে জানানো হয়েছে, দলের তরফে কোনো সংগঠিত নাম কাটার অভিযান চালানো হয়নি। যেকোনো আইনি প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ তথ্যপ্রমাণ পেশ করার দাবি জানিয়েছে বিজেপি।