বিপুল শঙ্কর বসু : মঙ্গলবারের দুপুরে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এবিভিপি ও এসএফআই  সমর্থকদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের রূপ নিল শিক্ষাঙ্গন। দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ব্যাপক মারামারি ও উত্তেজনার জেরে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন ছাত্র ও সমর্থক গুরুতর জখম হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এবিভিপির উত্তরবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক দীপ দত্ত ও আক্রান্ত ছাত্র মানবেন্দ্র কুন্ডুর অভিযোগ, ক্যাম্পাসে সংগঠনের জমি তৈরি করতে এসএফআইয়ের পক্ষ থেকে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে আসা হয়।

লাথি মেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এবিভিপির দুই কার্যকর্তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তারা।
অন্যদিকে, এসএফআইয়ের রায়গঞ্জ টাউন লোকাল সম্পাদক বিবেক বর্মন ও আক্রান্ত সমর্থক জাহাঙ্গীর আলমের পালটা অভিযোগ, ক্লাস চলাকালীন জাহাঙ্গীরকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে মারধর করে এবিভিপি কর্মীরা। এমনকি জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এসে তাঁরদাদাও আক্রান্ত হন। এসএফআইয়ের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা বহিরাগতদের এনে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের গন্ডগোলের পর রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসএফআই সমর্থকদের দেখতে যান সংগঠনের নেতারা। সেই সময় হাসপাতাল চত্বরে পুনরায় এবিভিপি ও এসএফআই সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে যথেষ্ট হিমশিম খেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিনের এই হিংসাত্মক ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও পঠনপাঠনের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন উঠেছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।