পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মঙ্গলবার ভোটাভুটিতে স্থির হলো মালদা জেলা পরিষদের ভাগ্য। তবে তার আগেই সোমবার পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়ে নিয়েছিল বিজেপি। সোমবার গভীর রাতে মালদা স্টেশন থেকে জেলা পরিষদের ৪ তৃণমূল সদস্য ফজলুল হক, রবিউল ইসলাম, শামসুল হক এবং পরিতোষ সরকারকে আটক করল পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় জেলার রাজনৈতিক মহলে। কংগ্রেসের অভিযোগ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা না-থাকা সত্বেও পুলিশকে দিয়ে তাদের জোট সদস্যদের মিথ্যা মামলায় আটক করে রাখে বিজেপির দলদাস পুলিশ!

রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মণ ঘোষ এবং সহকারী সভাধিপতি আবু তৈয়ব রফিকুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে দলেরই সদস্যদের একাংশ। গত ১৬ অগস্ট তলবি সভা ডেকে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতিকে অপসারণ করা হয়। যদিও তার আগেই ১৪ই আগস্ট নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ওই দুজন। তার পর থেকে ওই জেলা পরিষদে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি ছিলনা। বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। জেলার ডিভিশনাল কমিশনারকে দ্রুত ওই পদে নির্বাচনে করানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

তার পরেই ঠিক হয় মঙ্গলবার সেই নির্বাচন হবে। তবে তার আগে জেলা পরিষদের চার সদস্যকে স্টেশন থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। 
আটক হওয়া জেলা পরিষদের সদস্য ফজলু হক বলেন, ‘‘কী অভিযোগে আমাদের ধরা হল, সেটা বলা হচ্ছে না। বলছে তদন্তের স্বার্থে থানায় নিয়ে যাচ্ছে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। বিজেপির নেই। সেই কারণে আমাদের সদস্যদের পুলিশকে দিয়ে আটক করাচ্ছে।’’ একই অভিযোগ তুলেছেন ইশা এবং কংগ্রেসনেত্রী মৌসম বেনজির নুরও। ইশার দাবি, সুষ্ঠুভাবে সব সদস্যেরা যাতে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে পুলিশ কোনও কারণ না-দেখিয়েই তাদের আটক করছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের কথায়, ‘‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
বিজেপি গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চাইছে, মানুষ এর জবাব দেবে।’’ 
মঙ্গলবার বিজেপির দীপালি বালা সভাধিপতি এবং বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবিরের লিপিকা বর্মন ঘোষ সহ-সভাধিপতি নির্বাচিত হওয়ার পরই প্রক্রিয়াটিকে ‘বেআইনি’ বলে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের দাবি, তাদের সঙ্গে থাকা বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্যদের সমর্থনে বোর্ড গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যা ছিল। কিন্তু তাঁদের কয়েকজনকে পুলিশ আটক করায় সেই সংখ্যার হিসাব বদলে যায়। বোর্ড গঠনের আগের রাতে মালদহ টাউন স্টেশনে কংগ্রেসের সঙ্গে থাকা তৃণমূলের  ৪  জেলা পরিষদ সদস্য ফজলুল হক, রবিউল ইসলাম, শামসুল হক এবং পরিতোষ সরকারকে পুলিশ আটক করে । ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতেই স্টেশন চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, সদস্যদের ভোটদানের সুযোগ থেকে দূরে রাখতেই তাঁদের আটক করা হয়েছে। 
         কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নূর অভিযোগ করেন, মমতা-সমর্থক তৃণমূলের একাংশ তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। তাঁদের সমর্থনেই জেলা পরিষদে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্ক তৈরি হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। বিজেপি মাত্র চারজন সদস্য নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতায় বোর্ড গঠন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান কংগ্রেস নেতৃত্ব।
দক্ষিণ মালদহের সাংসদ তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরীরও অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে থাকা সদস্যদের আটক করার ফলে ভোটের সমীকরণ বদলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, আইনগত পথে এই বোর্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করা হবে। 
অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা দাবি, কংগ্রেসের সদস্যরা সভায় উপস্থিত হননি। তাঁদের অভিযোগ, ভয় পেয়ে কংগ্রেস সদস্যরা ভোটপ্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক সমর্থন ও তৃণমূলের একাংশের সমর্থনেই বোর্ড গঠন করেছে বলে দাবি করেছে। 
জেলা পরিষদে মোট ৪৩টি আসন। সভাধিপতি নির্বাচনে প্রয়োজন ছিল ২২ সদস্যের সমর্থন। শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের একাংশের সমর্থনে বিজেপির প্রার্থী দীপালি বালা সভাধিপতি নির্বাচিত হন। সহ-সভাধিপতি হন লিপিকা বর্মন ঘোষ। 
পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অবশ্য পুলিশ অস্বীকার করেছে। ফলে জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন আদালত পর্যন্ত গড়ায় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।