পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান ও তাদের মদতদাতাদের কড়া বার্তা দিল ভারত। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ষষ্ঠ কমিটির অধিবেশনে ভারতের জাতীয় বিবৃতি দিতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ বিপ্লব দেব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তান থেকে আসা সীমান্তপারের সন্ত্রাসের হাত থেকে নিজের দেশের নাগরিকদের রক্ষা করার সার্বভৌম ও পূর্ণ অধিকার নয়াদিল্লির রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের এর পরিণতি ভোগ করতেই হবে। একই সঙ্গে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-কে কড়া আক্রমণ করে তিনি সাফ জানান, ওআইসি তথ্য ও কল্পকাহিনির মধ্যে ফারাক করতে পারছে না এবং মারাত্মক ভুল করে ভুক্তভোগী ও অপরাধীকে এক পাল্লায় মাপছে।
পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের নির্দিষ্ট ও পরিমিত পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ওআইসি। তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিপ্লব দেব বলেন, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে অনর্থক মন্তব্য করার আগে ওআইসি নেতৃত্বের উচিত পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকানো। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে সাধারণ মানুষের ওপর নির্মম হত্যা, হিংসা এবং মৌলিক মানবাধিকার হরণের ঘটনা চোখের সামনে ঘটলেও ওআইসি কেন চোখ বন্ধ করে রয়েছে, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন। ভারত ফের স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগত কোনও সংগঠনের নাক গলানোর অধিকার নেই।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের আপসহীন অবস্থান তুলে ধরে বিপ্লব দেব উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসকে কোনওভাবেই ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ হিসেবে আলাদা করা যায় না। যে উদ্দেশ্যেই করা হোক না কেন, নিরীহ মানুষকে হত্যা করার কোনও যুক্তি থাকতে পারে না। সন্ত্রাসবাদের ঘটনায় একটি আক্রমণ কিংবা একটি প্রাণহানিও অনেক বেশি। নতুন প্রযুক্তির অপব্যবহার, সন্ত্রাসে অর্থের জোগান এবং মৌলবাদী প্রচারের মোকাবিলায় বিশ্বমঞ্চে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি, ১৯৯৬ সালে ভারতের প্রস্তাবিত সর্বাঙ্গীণ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমন সনদ (সিসিআইটি) দ্রুত কার্যকর করার জোরালো দাবি জানান তিনি। রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে তাঁর দ্ব্যর্থহীন বার্তা—সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় কোনও দ্বিচারিতা বরদাস্ত করা হবে না এবং যারা সন্ত্রাস চালায়, অর্থ জোগায় কিংবা মদত দেয়, প্রত্যেককেই কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।