পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকায় ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নিতে চলেছে। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একজোট হয়ে আন্দোলনে নামার কথা ঘোষণা করল দেশের প্রধান ৫টি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। মঙ্গলবার যৌথ এক বিবৃতি প্রকাশ করে এই বড় সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ৫টি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন হলো— স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (AISF), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA), প্রগ্রেসিভ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (PSU) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ব্লক (AISB)। যৌথ বিবৃতিতে ছাত্র নেতৃত্ব তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক পটভূমি ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হাজার হাজার মানুষ আজ সোচ্চার হয়েছেন।
ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করছে, টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে, মারধর করছে এবং এমনকি নারী আন্দোলনকারীদের শ্মীলেতাহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবাদের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপরও শারীরিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বাম ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ ও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত, ভোটার তালিকায় বিতর্কিত ও বেআইনি 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' প্রক্রিয়া বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনের কাঠামোয় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ নির্বাচনী সংস্কার।
এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, এআইএসএফ-এর সাধারণ সম্পাদক দীনেশ শ্রীরাঙ্গরাজন, আইসা-র সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ কুমার, পিএসইউ-এর সাধারণ সম্পাদক বলরাম সজীব এবং এআইএসবি-র আহ্বায়ক অমিত সিং যৌথভাবে সংবিধানপ্রেমী গণতান্ত্রিক শক্তিকে ১০ অক্টোবরের যন্তর মন্তরের অভিযানে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।