পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় বদল আনতে চলেছে সরকার। তুলে দেওয়া হচ্ছে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন। এবার থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশন তথা এসএসসির মাধ্যমেই মাদ্রাসার যাবতীয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক ব্যয়ভার কমাতেই এই পদক্ষেপ বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়া হয়েছে এবং সেটিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে একীভূত করে দেওয়া হয়েছে।এতদিন মাদ্রাসার জন্য আলাদা পরীক্ষা ও স্বতন্ত্র নিয়োগ পদ্ধতি থাকায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন বিভ্রান্তি তৈরি হতো। সরকারের মতে, এই সংযুক্তিকরণের ফলে চাকরিপ্রার্থীরা একটি একক পরিকাঠামোর মাধ্যমেই আবেদনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সরকারি খরচের অপচয় রোধ হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করতে রাজ্য সরকারকে বিধানসভায় নতুন বিল পাস করাতে হবে। পুরনো আইন প্রত্যাহার এবং এসএসসির নিয়মে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে দ্রুতই বিধানসভায় সংশোধনী বিল পেশ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
সরকারি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সংখ্যালঘু পড়ুয়ারা কেন মূল স্রোতের শিক্ষা থেকে পিছিয়ে থাকবে কিংবা বিজ্ঞান ও অঙ্ক শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বব্যাপী করে সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের জাতীয় জীবনের মূল স্রোতে নিয়ে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে, বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও ডিরেক্টরেটকে মূল স্রোতে আনার মাধ্যমে যদি ছাত্রছাত্রীদের উন্নতি হয়, তবে তা ইতিবাচক। তবে সরকারের উদ্দেশ্য যদি ভিন্ন হয়, তবে শিক্ষক সংগঠনগুলি রাস্তায় নেমে এর প্রতিবাদ জানাবে।