পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নমাজ পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো মসজিদেই যেতে হবে—এমন দাবি বা বাধ্যবাধকতা ইসলাম ধর্মে নেই। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের মতো বৃহত্তর ইস্যুতে রাজ্যের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধর্মস্থানই বাধা হতে পারে না। দমদম বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবন্দর চত্বরের মধ্যে থাকা বাঁকড়া মসজিদ সংক্রান্ত মামলায় বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে এমনটাই যুক্তি দিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (এএআই)।
একইসঙ্গে কেন্দ্র সরকারের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, নিরাপত্তাজনিত এই ফাঁক দূর না হলে ভারতেও সম্প্রতি ‘৯/১১’-এর মতো বড়সড় বিমান বিপর্যয় ঘটতে পারত, যা কেবল এক ভারতীয় পাইলটের তৎপরতায় এড়ানো গেছে।
বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে শুনানিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, যে জমিতে মসজিদটি অবস্থিত সেটি পাবলিক ল্যান্ড এবং ১৯৬১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির নোটিফিকেশন অনুযায়ী রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বহু আগেই জনস্বার্থে অধিগ্রহণ করেছে। স্থানীয় অধিবাসীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান আগেই করা হয়েছে।
শুনানিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যুক্তি দেখিয়ে বলে, যে কেউ তাঁদের ধর্ম পালন করতে পারেন, কিন্তু নির্দিষ্ট একটি স্থানেই তা করতে হবে—এমন দাবি করা যায় না। বিদেশের একাধিক জায়গায় খোলা জায়গায় বা অন্যত্র নমাজ পড়ার নজির রয়েছে। যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত, সেখানে মৌলিক অধিকারের ঢাল ব্যবহার করা যায় না। এর আগেও জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ বা উন্নয়নমূলক কাজে মন্দির, গির্জাসহ একাধিক ধর্মীয় স্থান অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল করেন, ১৩৬ বছর ধরে কোনো নিরাপত্তার সমস্যা হয়নি। এতদিন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষই ৫০-৬০ জন পুণ্যার্থীকে বাসে করে চেক করে মসজিদে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতেন। হঠাৎ করে প্রবেশের অধিকার কেড়ে নেওয়া বেআইনি, কারণ জমিটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণ করা হয়নি। আগামী ৯ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।