পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সেদিন ইসলামাবাদের আকাশে ভেসে এসেছিল বিকট শব্দ— একটার পর একটা বিস্ফোরণের মতো গর্জন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো শহরে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ভারতের একটি মিগ-২৫ (MiG-25) যুদ্ধবিমান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় এবং শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে ওড়ায় এই ‘সনিক বুম’ বা বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে পরের দিনই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তা সরাসরি অস্বীকার করে জানায়— "কোনো ভারতীয় সামরিক বিমান আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করেনি।
"আরও পড়ুন:
বহু বছর পর অবশেষে প্রকাশ্যে এল সেই ঐতিহাসিক ও অতি-গোপনীয় অভিযানের আসল সত্য। ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার প্রদীপ জসবন্ত (পিজে) ঠাকুর এবং প্রবীণ মিগ-২৫ পাইলট এয়ার মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) সুমিত মুখার্জি সেদিনের সেই রোমাঞ্চকর মিশনের স্মৃতি ও সামরিক রহস্য উন্মোচন করেছেন।
আরও পড়ুন:
সোভিয়েত নির্মিত মিগ-২৫ 'ফক্সব্যাট' সাধারণ কোনো যুদ্ধবিমান ছিল না। মার্কিন এসআর-৭১ ব্ল্যাকবার্ডের পাশাপাশি এটিই ছিল বিশ্বের অন্যতম বিমান, যা শব্দের গতির প্রায় তিনগুণ বা ম্যাক ৩ গতিতে উড়তে সক্ষম।
উত্তরপ্রদেশের বেরেলি ঘাঁটিতে অবস্থিত ভারতীয় বায়ুসেনার ১০২ নম্বর স্কোয়াড্রন— যা 'ট্রাইসোনিক্স' নামে পরিচিত ছিল— সেখানে মোট ১০টি মিগ-২৫ বিমান ছিল (৮টি এক আসন বিশিষ্ট নজরদারি বিমান এবং ২টি দ্বি-আসন বিশিষ্ট প্রশিক্ষক বিমান)।আরও পড়ুন:
তথ্য অনুযায়ী, বিমানগুলি ভূমির প্রায় ২০ কিলোমিটার (৬৫,৬১৭ ফুট) ওপর দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ২,৫৫০ কিলোমিটার বা ম্যাক ২.৪ গতিতে উড্ডয়ন করত। উইং কমান্ডার পিজে ঠাকুর এনডিটিভি-কে জানান, ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় মিগ-২৫ কখনোই সাবসোনিক (শব্দের কম গতি) গতিতে উড়তে পারে না, তাহলে তা আকাশ থেকেই আছড়ে পড়বে। ফলে আকাশে সেই সনিক বুম স্বাভাবিকভাবেই হয়েছিল, তবে পাকিস্তানকে ভয় দেখানোর জন্য বিমানটি ইচ্ছা করে জানালে ভাঙার মতো শব্দ তৈরি করেছিল— এমন দাবি নিছকই জল্পনা।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তান বিমান বাহিনী সেই অনুপ্রবেশকারী বিমানটিকে চিহ্নিত করে এবং তাদের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করার জন্য পাঠায়। কিন্তু ৬০,০০০ ফুটেরও বেশি উঁচুতে মিনিটে ৪০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে থাকা মিগ-২৫ বিমানকে ছোঁয়া বা ইন্টারসেপ্ট করা তৎকালীন পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের পক্ষে অসম্ভব ছিল।